“বৃষ্টি এলেই ঘরে জল পড়ত, আর ঝড় উঠলে মনে হতো এই বুঝি মাথাটা ভেঙে পড়ল। চোখের জলে মোড়ানো নির্ঘুম রাতগুলোই ছিল আমার সঙ্গী।”—কথাগুলো বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট গ্রামের অসহায় ও হতদরিদ্র বৃদ্ধা জবেতন বিবি। দীর্ঘদিনের সেই জীর্ণশীর্ণ কুঁড়েঘরের দুঃখ ঘুচে এখন তাঁর মুখে চওড়া হাসি। রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরির ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানবিক ছোঁয়ায় নতুন একটি নিরাপদ ঘর পেয়ে জীবনের শেষ সময়ে এসে যেন নতুন এক জীবন ফিরে পেলেন এই বৃদ্ধা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জবেতন বিবি দীর্ঘদিন ধরে একটি ভাঙা ও নড়বড়ে ঘরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। একটু বৃষ্টি নামলেই জবরদস্তিতে পানি পড়ার কারণে ভিজে যেত বিছানাপত্র; আর কালবৈশাখী ঝড় বা দুর্দিন এলে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটতো তাঁর। নিরাপদ একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র অপূর্ণ স্বপ্ন।
অবশেষে মানবিকতার চেরাগ হয়ে সেই অসহায় বৃদ্ধার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। বিষয়টি তাঁর নজরে আসা মাত্রই তিনি আর দেরি করেননি; নিজ উদ্যোগে দ্রুত সময়ের মধ্যে জবেতন বিবির জন্য নতুন একটি ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করেন।
নতুন ঘরের চাবি ও নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বৃদ্ধা জবেতন বিবি। আনন্দে আত্মহারা হয়ে ইউএনওকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি দোয়া করে বলেন, “আমার সারা জীবনের দুঃখ আজ ঘুচে গেল। আল্লাহ স্যারকে ভালো রাখুন। এখন আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারব।”
প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী ও মন জয় করা উদ্যোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, “প্রশাসনের কাজ কেবল অফিসে বসে ফাইলপত্র নাড়াচাড়া করা নয়, মানুষের প্রকৃত পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল দায়িত্ব। জবেতন বিবির মতো এমন একজন অসহায় মানুষের মুখে একটু স্বস্তির হাসি ফোটাতে পারলেই আমাদের কাজের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়।”
ইউএনও রিফাত আরা মৌরির এমন মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ রাজাপুর উপজেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসার ঝড় তুলেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এমন দায়িত্বশীল ও হৃদয়গ্রাহী ভূমিকা সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



