পাকিস্তানের একটি বিশেষ মিশনের বিমানকে ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে ধ্বংস করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ভারত। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা চালায়। প্রতিবেদনের দাবি, এটি ছিল ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার হামলাগুলোর একটি।
সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বলছে, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে এই হামলা ভারতীয় বিমানবাহিনীর দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় প্রমাণ। এর মাধ্যমে শত্রুপক্ষের সেই ধারণাও ভুল প্রমাণিত হয়েছে যে, অনেক দূরে থাকলে তারা ভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভারতীয় রাডারগুলো নীরবে লক্ষ্য শনাক্ত করেছিল’। এরপর দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র তার নির্ধারিত পাল্লার একেবারে শেষ সীমায় থাকা লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছোড়া হয়। এতে প্রমাণ হয়েছে, অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুও ভারতীয় বিমানবাহিনীর সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১২ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আদমপুর বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করেন এবং অভিযানে অংশ নেয়া ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন।
একই বছরের ১৫ আগস্ট অভিযানে ভূমিকার জন্য ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদস্যদের ২১৯টি প্রেসিডেন্টস গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্য হিন্দু বলছে, ২০২৫ সালের ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতে সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। দেশের আকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা ভারতীয় বিমানবাহিনী নিজেদের তৈরি ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ বা আইএসিএসের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয় করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক ও বেসামরিক নজরদারি ব্যবস্থার বিভিন্ন সেন্সরকে একীভূত করে সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে আইএসিএস। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আকাশ পরিস্থিতির একটি অভিন্ন চিত্র দেয়া হয়।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর নেটওয়ার্কভিত্তিক কৌশলগত নোডের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এসব নোড আকাশপথের লক্ষ্য শনাক্ত ও শ্রেণিবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংঘাতের সময় যেন কোনো বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা না হয়, প্রশিক্ষিত অপারেটররা সেটিও নিশ্চিত করেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের সময় পাকিস্তান তাদের বেসামরিক আকাশসীমা খোলা রেখেছিল এবং সামরিক সংঘাত চলার মধ্যেও বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। বিপরীতে, ভারত এমনভাবে অভিযান চালিয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ঝুঁকিতে না পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের চাকলালা, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর, মুরিদ, সারগোধা, জ্যাকোবাবাদ ও ভোলারি এলাকায় থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং সামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালায়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ৮ থেকে ১০ মে পাকিস্তান সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো, উপাসনালয়, স্কুল ও চিকিৎসাকেন্দ্র লক্ষ্য করে উত্তেজনা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর জবাবে ভারতের পদক্ষেপ ছিল ‘নিয়ন্ত্রিত কিন্তু শাস্তিমূলক’। সুনির্দিষ্ট সামরিক হামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত রাখাই ছিল এর লক্ষ্য।
এসব সুনির্দিষ্ট হামলার পর পাকিস্তান সংঘাত বন্ধের ‘আহ্বান জানায়’ বলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।




