মাছের খাদ্যে অতি ক্ষুদ্র আকারে খনিজ ও ভিটামিন যুক্ত করার উদ্ভাবনী পদ্ধতি ‘ন্যানো ফিশ ফিড’ তৈরির প্রক্রিয়ার পেটেন্ট পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ন্যানো অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি (NAME) ল্যাবের পরিচালক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান।
গত ১ নভেম্বর (রোববার) বাংলাদেশ পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (DPDT) থেকে জারি করা ‘Notice of Grant’-এর মাধ্যমে তাঁর এ পেটেন্ট অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পেটেন্টটির সিরিয়াল নম্বর ১০০৭১৮৮। ‘A Formulation Process of Smart Nano-Micro Size Fish Feed with Vitamins’ শিরোনামে উদ্ভাবনটির পেটেন্ট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান জানান, মাছের খাদ্যে আয়রন, জিংক, কপার ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান এবং বিভিন্ন ভিটামিন অতি ক্ষুদ্র আকারে মিশিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন তিনি। এর ফলে মাছের শরীরে এসব পুষ্টি উপাদানের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্ভাবনটির কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, মাছ খাদ্যের সব পুষ্টি উপাদান কাজে লাগাতে পারে না। খাদ্যের যে অংশ মাছ গ্রহণ করতে পারে না, তা পুকুরের পানিতে জমে বর্জ্যে পরিণত হয়। এতে পানিদূষণ বাড়ে। অন্যদিকে মাছ চাষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত হলো খাদ্য। তাই একই পরিমাণ খাদ্য থেকে মাছের পুষ্টি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে একদিকে চাষিদের উৎপাদন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে পুকুরের পানিদূষণও হ্রাস পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও নিউট্রিয়েন্ট বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। ন্যানো প্রযুক্তিনির্ভর এই ফর্মুলেশন ব্যবহার করা গেলে তুলনামূলক কম পরিমাণ উপাদান দিয়েই অধিক কার্যকারিতা পাওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে খাদ্যের অপচয় কমবে, পরিবেশের ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং মাছের গুণগত মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরে অধ্যাপক জাভেদ বলেন, এটি ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনো প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। প্রচলিত ফিড মিলগুলোতে মাছের খাদ্য তৈরির সময় অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের সঙ্গে এটি মিশিয়ে দেওয়া যাবে। ফলে নারিশ, কাজী ফার্মস কিংবা আফিলের মতো মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে সহজেই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ প্রযুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত অক্টোবর মাসে ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের জন্য প্রথম পেটেন্ট অর্জন করেন অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। ‘ন্যানো ফিশ ফিড’ তৈরির পদ্ধতির পেটেন্টটি তাঁর দ্বিতীয় পেটেন্ট অর্জন।




