তফছিল নেই তারিখ প্রকাশেই সরাইলে প্রার্থীদের প্রচারণা তুঙে

স্থানীয় সরকারের অধীনে  নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তারিখ ঘোষণার সাথে সাথে  নির্বাচনী আমেজে সরগরম হয়ে উঠেছে সরাইল। নির্বাচনকে সামনে রেখে আগ্রহী উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক প্রার্থীর রঙিন পোস্টার ও ব্যানার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে। আবার কেউ কেউ মিছিল-মিটিং বা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমেও নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করছেন। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী চোখে পড়ার মত। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ মাঠে না থাকায় বেশ চাঙ্গা অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। তারা বিএনপির অধিক প্রার্থীর ফাকে নিজেদের সুযোগ করে নিচ্ছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেউ কেউ প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা গেলেও মাঠে নেই তারা। সরাইল উপজেলার মোট ০৯ টি ইউনিয়নে উপজেলা নির্বাচন অফিসের  তথ্যমতে, ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৩ শ ৭৭ জন ভোটার রয়েছে আর এ আসনে মোট পুরুষ  ভোটার ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬ শত ৩৩ জন ও  মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭ শত ৪২ জন এছাড়া হিজড়ার সংখ্যা ২ জন।
ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শাহজাদাপুর ইউপিতে মোট ভোটার ২২ হাজর ৫ শ ১৪ জন, এর মধ্যে ১১ হাজার ৯ শ ২২ জন পুরুষ ও ১০ হাজার ৫ শ ৯২ জন নারী। শাহবাজপুর ইউপিতে ২৭ হাজার ১ শ ১৫ জন ভোটারের মধ্যে ১৪ হাজার ১ শ ৫৮ জন পুরুষ ও ১২ হাজার ৯ শ ৫৭ জন মহিলা। সরাইল সদরে মোট ভোটার ৪৪ হাজার ৭ শ ৮২ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৩ হাজার ৯৩ জন, মহিলা  ভোটার ২১ হাজার ৬ শ ৮৯ জন। অরুয়াইল ইউপিতে ৩২ হাজার ১ শ ৫৭ জন মোট ভোটারের মধ্যে ১৭ হাজার ৯ শ ৮৪ জন পুরুষ ও ১৪ হাজার ১শ ৭৩ জন মহিলা। পাকশিমুল ইউপির ৩৭ হাজার ৩ শ ২২ জন ভোটারের মধ্যে ২০ হাজার ৮ শ ২৫ জন পুরুষ ও ১৬ হাজার ৪ শ মহিলা এবং ১জন হিজরা রয়েছে। চুন্টা ইউপিতে মোট ভোটার রয়েছে ৩০ হাজার ৪ শ ২৫ জন এর মধ্যে ১৬ হাজার ৬ শ ৪৫ জন পুরুষ ও ১৩ হাজার ৭ শ ৭৯ জন মহিলা এবং ১জন হিজড়া। নোয়াগাও ইউপিতে ৩৫ হাজার ৮ শ ৫৮ জন ভোটারের মধ্যে ১৯ হাজার ৪ শ ৭৮ জন পুরুষ ও ১৬ হাজার ৩ শ ৮০ জন মহিলা। পানিশ্বরে (উত্তর) মোট ভোটার ৩২ হাজার ৯ শ ২৩ জন এর মধ্যে ১৮ হাজার ৯২ জন পুরুষ ও ১৪ হাজার ৪ শ ৩১ জন মহিলা রয়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট বাজারের অলি গলিতে চলছে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ কে হবে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান কি তার যোগ্যতা কোন প্রার্থী কতখানি গ্রহনযোগ্য তা এখন সকলের মুখে মুখে। প্রচারনা জমজমাট করতে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে চটকদার ব্যানার পোষ্টারের প্রচারনা। নানা রকম কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে ভোটারদের মন পেতে চলছে প্রচারনা। কেউ কেউ অংশ নিচ্ছেন নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে। সমর্থন লাভের আশায় নিজের ওয়ার্ডের মানুষের মতামত নিচ্ছেন সর্বাগ্রে। এখন পযন্ত কতজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিবে তার সঠিক তথ্য  না থাকলেও প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে রয়েছে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২জন করে সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রচারনা। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের  নির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থীর নাম ঘোষনা না হলেও  জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সাবেক আমির মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সহকারী সেক্রেটারী  তারেকুল ইসলাম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মহিলা জামাতের সম্পাদক তৌহিদা হক মৃধাকে  চুড়ান্ত করা হয়েছে বলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মোঃ নুরুজ্জামান জাভেদ জানিয়েছেন।  এবারে প্রার্থীদের আধিক্য অনুযায়ী যদি তারা নির্বাচন করেন তবে বেশির ভাগ প্রার্থীই জামানত হারাবে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
তবে উপজেলা বিএনপির কোন প্রার্থীর নাম এখন পযন্ত দলীয় সূত্রে প্রকাশ না করায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছে অনেকেই।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার গুণগত মান

Scroll to Top