কিশোরগঞ্জ কটিয়াদী উপজেলার ২ নং সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের খোকন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খোকন মিয়া (৫৫) পিতা :মো: আবু বাক্কার, এর বিরুদ্ধে তার বসতবাড়ীতেই মুদি দোকান দেখিয়ে ডিলারশিপ নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।সারের ডিলারশিপ পাওয়ার ১৭ দিন পর তার বসতবাড়ীতে কাঠমিস্ত্রী দ্বারা খোকন এন্টারপ্রাইজ এর সারের গুদাম তৈরির কাজ প্রতীয়মান হয়।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তি বাদ পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এমন অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নেই বা কম। নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কোনো ডিলারের গুদাম ও সার বিক্রির দোকানের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বসতবাড়ীর মুদির দোকানকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে এবং প্রয়োজনীয় গুদাম সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও খোকন এন্টারপ্রাইজকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা খোকন মিয়া মুদি দোকান ব্যবসায়ী, খোকন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। তিনি এই ইউনিয়নের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তবে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডিলারশিপের জন্য দেখানো স্থানে সার সংরক্ষণের উপযোগী পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধা নেই।সেখানে মুদি দোকানের কার্যক্রম থাকলেও কীভাবে সার সংরক্ষণ ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।তাছাড়া একজন মুদি ব্যাবসায়ীর কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া সারের ডিলার চালানোর সক্ষমতা সম্পর্কে সন্ধিহান প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সার সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো থাকা জরুরি। প্রয়োজনীয় গুদাম সুবিধা না থাকলে সারের গুণগত মান বজায় রাখা এবং কৃষকদের কাছে সঠিকভাবে সার সরবরাহ করা কঠিন হতে পারে। এ ছাড়া ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে, সার ডিলারশিপ নিয়ে উঠা অভিযোগ স্বীকার করেছেন মেসার্স খোকন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খোকন মিয়া।তিনি বলেন,আমি যখন ডিলারশিপের আবেদন করি তখন আমার মুদি দোকান ছিল।কৃষি কর্মকর্তাগন যখন পরিদর্শনে আসেন তখন আমি উনাদের বলেছি, এটা আমার মুদি দোকান, আপনারা আমাকে ডিলারশিপ দিলে আমি এই মুদি দোকান ভেঙ্গে এখানেই সারের গোডাউন তৈরি করব এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য এবং সারের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।কৃষি কর্মকর্তাগন বলেন, ঠিক আছে আপনি মুদি দোকান ভেঙ্গে সারের গুদাম তৈরি করেন।সারের গুদাম কিন্তুু সংশ্লিষ্ট জায়গায় দেখাতে হবে।আমি স্যারদের বলেছি যে,এটা আমার বসতবাড়ী, নিজের জায়গা এখানে দ্রুত সারের গুদাম তৈরি করব।
কটিয়াদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ.এন.ও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, এই অভিযোগটি এইমাত্র আপনাদের কাছে পেলাম।এখানে সারের ডিলার নিয়োগে সরকারী নীতিমালা অনুসরন করেছি,পাশাপাশি আমাদের যে কৃষি কর্মকর্তা মহোদয় আছেন উনি আমাকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রত্যেকটা আবেদনকারী যারা ছিলেন তাদের এগেইস্টে কি কি শর্ত তারা পূরন করেছেন সেই সাপেক্ষে কিন্তু আমাদের নিয়োগটা সম্পন্ন হয়েছে। তারপরও যেহেতু খোকন এন্টারপ্রাইজের নামে অভিযোগ এসেছে আমরা সেটা খতিয়ে দেখব।নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কিংবা উপযুক্ত গুদামজাতকরণ সুবিধা ছাড়া ডিলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন,আমরা যখন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম তখন একটা বড় ঘর দেখেছি বা মার্কেট দেখেছি।এখন হয়তো উনি সেটা ভেঙ্গে অন্য কিছু তৈরি করতে পারেন। খোকন এন্টারপ্রাইজের নামে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, আমরা সরেজমিনে যাব এবং আমরা এই অভিযোগ তদন্ত করব ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিব।
এদিকে, বিষয়টি তদন্ত করে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এবং সার সংরক্ষণের ব্যবস্থা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।গৌরিপুর গ্রাম সহশ্রাম ধূলদিয়ার শেষ বর্ডারে অবস্হিত।সারের গুদাম কৃষকদের বসতবাড়ী থেকে দূরবর্তী হওয়ায় কৃষকদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।



