ঝালকাঠির রাজাপুরে খালের জলে ভাসছিল রক্তে ভেজা এক নিথর দেহ। শরীরে ধারালো অস্ত্রের নির্মম কোপের চিহ্ন দেখে চমকে ওঠেন স্থানীয়রা। অবশেষে কোনো প্রাথমিক প্রমাণ ছাড়া উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত মরদেহের রহস্য ভেদ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) বিশ্লেষণের আধুনিক প্রযুক্তিতে বেরিয়ে এসেছে নিহতের নাম-পরিচয়—তিনি মো. নুর আলম কাগজি (৩৫)।
নুর আলম রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠি গ্রামের আফছার কাগজির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ কাঠীপাড়া এলাকার কদবেলতলা স্থানের একটি খালে ভেসে থাকা অবস্থায় নুর আলমের মরদেহ দেখতে পান পথচারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিহতের দেহে একাধিক কোপের গভীর ক্ষত দেখে সিআইডির প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃসংসভাবে কুপিয়ে জখম করার পর প্রমাণের চিহ্ন লোপাট করতে লাশটি খালে ফেলে রেখে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর কোনো পরিচয়পত্র না পাওয়ায় প্রযুক্তির আশ্রয় নেয় সিআইডির বায়োমেট্রিক টিম। নিহতের আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে তা মেলাতেই মুহূর্তের মধ্যে ফুটে ওঠে তাঁর সঠিক পরিচয়।
তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসল কারণ কী? কারা জড়িয়ে ছিল এই রক্তাক্ত চক্রান্তে? তা এখনও ঘোর কুয়াশায় ঢাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মোটিফ উদ্ধার ও জড়িত ঘাতকদের গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে ছায়া তদন্ত শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ ও সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খালের শান্ত জলে ভেসে ওঠা এই রক্তাক্ত লাশকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা জুড়ে এখন চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।




