কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পরিচিত এ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে জমা দেওয়ার পরও একটি নাগরিক সনদ পেতে কয়েক ঘণ্টার পরিবর্তে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নাগরিকরা।
অভিযোগ রয়েছে, নাগরিক সনদে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রয়োজন হওয়ায় ওই কর্মকর্তা ছুটিতে থাকলে সেবা কার্যক্রম কার্যত থেমে যায়। একজন সরকারি কর্মকর্তার ছুটি নেওয়ার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি ছুটিতে যাওয়ার আগে কি বিকল্প কোনো কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে গেছেন? দায়িত্ব দেওয়ার পরও যদি নাগরিককে সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে এর দায়ভার কার?
বিশেষ করে কোনো নাগরিকের জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত নাগরিক সনদ প্রয়োজন হলে তিনি কী করবেন—এমন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।
১৫ দিনেও হোল্ডিং ট্যাক্স আপডেট হয়নি?
নাগরিক সেবা নিয়ে আরেকটি অভিযোগ উঠেছে হোল্ডিং ট্যাক্সের তথ্য হালনাগাদ করা নিয়ে।
একজন পৌর নাগরিক গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেন। কিন্তু ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি মৃত্যু সনদ নিতে পৌরসভায় গেলে তাকে জানানো হয়, তার হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে।
এ সময় সংশ্লিষ্ট পৌর কর্মকর্তাকে ট্যাক্স পরিশোধের বিষয়টি জানানো হলে ওই নাগরিককে ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ নিয়ে আসতে বলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মকর্তা দাবি করেন—পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী টাকা জমা দেওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই সিস্টেমে ট্যাক্সের তথ্য আপডেট হয়ে যায়।
পরে নাগরিক বাড়ি থেকে ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ নিয়ে পৌরসভায় গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তিনি ৩০ আগস্টের ট্যাক্সের তথ্য আপডেট করছেন।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, যদি ট্যাক্স পরিশোধের পরপরই সিস্টেমে তথ্য আপডেট হওয়ার কথা থাকে, তাহলে ৩০ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৫ দিন ওই তথ্য হালনাগাদ হয়নি কেন? আর তথ্য আপডেট না থাকার কারণে একজন নাগরিককে কেন বকেয়া ট্যাক্সের কথা শুনতে হলো এবং অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়তে হলো?
দায়ভার নেবে কে?
নাগরিকদের প্রশ্ন, একটি কাগজপত্র যাচাই বা সিস্টেমে তথ্য হালনাগাদ করতে যদি দীর্ঘ সময় লাগে, তাহলে ক’ শ্রেণির একটি পৌরসভায় আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে?
একজন কর্মকর্তার ছুটি, দায়িত্ব বণ্টন, বিকল্প কর্মকর্তা নির্ধারণ এবং সরকারি সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার অংশ। একই সঙ্গে ট্যাক্স পরিশোধের তথ্য যথাসময়ে হালনাগাদ না হলে সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী নাগরিকদের দাবি, বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হোক। কোথায় প্রশাসনিক দুর্বলতা, কোথায় দায়িত্বে গাফিলতি এবং কোথায় সিস্টেমগত সমস্যা—তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে কোনো নাগরিক যেন জরুরি প্রয়োজনে একটি সনদ বা সরকারি সেবা নিতে গিয়ে অযথা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে।




