শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকার প্রকল্প। এলজিইডির বাস্তবায়নে অবকাঠামো ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ, সরেজমিনে পরিদর্শন ইউএনওর।

দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহাসিক ঈদের জামাতের স্থান কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রায় ৬ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠটির বিভিন্ন অবকাঠামোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও যুগোপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কামরুল হাসান মারুফ প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ। পরিদর্শনের সময় তারা মাঠের বিদ্যমান অবকাঠামো, উন্নয়নের সম্ভাব্য স্থান এবং পরিকল্পিত কাজের বিভিন্ন দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি মসজিদের মুসল্লি, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও কামরুল হাসান মারুফ বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, গত ঈদুল আজহার জামাতে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম মাঠটির উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এলজিইডির মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ঈদগাহ মাঠে নতুন করে মাটি ভরাট, আধুনিক পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, বাউন্ডারি ওয়াল পুনর্নির্মাণ, একটি প্রধান প্রবেশদ্বার ও আরও দুটি সহায়ক গেট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া পুকুরে অজুর জন্য প্রশস্ত ঘাট, আধুনিক ওজুখানা ও ওয়াশরুম নির্মাণ এবং সংলগ্ন মসজিদকে দুই তলা থেকে তিন তলায় উন্নীত করার কাজও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি ছিল। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাতে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মুসল্লির সমাগম হওয়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছিল। নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মুসল্লিদের যাতায়াত, অজু, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উল্লেখ্য, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে ১৮২৮ সাল থেকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রায় দুই শতকের ঐতিহ্য বহনকারী এই ঈদগাহ মাঠে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে আসেন। দেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক হিসেবে পরিচিত এ স্থানের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকার প্রকল্পকে কিশোরগঞ্জবাসী একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।এই সংস্করণটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টিং স্টাইল অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে এবং ভাষার পুনরাবৃত্তি কমিয়ে আরও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top