বাড়িতে স্বজনদের ভিড়, কিন্তু নেই কোনো আনন্দের কোলাহল। সন্তান হারানোর বেদনায় নির্বাক হয়ে আছেন বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা। কয়েক দিন আগেও যে বাড়িতে প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষা ছিল, সেখানে এখন তাঁর স্মৃতি ঘিরেই শোকের আবহ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনের সময় সেনাসদস্য দুর্ঘটনায় তাসনিম রিফাতের মৃত্যুতে রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোক।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে শোকাহত সেই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তার বাড়িতে যান সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন।
এমপি মিলন নিহত তাসনিম রিফাতের বাবা আসাদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন। ছেলেকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়া বাবাকে সান্ত্বনা দেন এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। পরে রিফাতের বাবা ও ভাইকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর কবর জিয়ারত করেন এবং নিহত সেনাসদস্যের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
এ সময় এমপি মিলন বলেন, “দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাসনিম রিফাতের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একজন তরুণ সেনাসদস্যের আকস্মিক মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, পুরো দেশের মানুষের জন্যই গভীর শোকের।”
মিলন বলেন, “সন্তান হারানোর কষ্ট কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। রিফাতের বাবার এই শোক আমরা ভাগ করে নিতে না পারলেও তাঁদের পাশে আছি—এটাই আমাদের দায়িত্ব। তাসনিম রিফাতসহ নিহত সেনাসদস্যদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য আমরা দোয়া করছি।”
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য শাহজাহান আলী, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, আব্দুস সালাম মাস্টার, আব্দুল হালিম ও কুতুব উদ্দিন বাদশা, উপজেলা যুবদলের সদস্য ফরিদুল ইসলাম সাহেবজাদা, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, সাবেক সদস্য মাজদার রহমান, পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব হাফিজুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হয়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য সৈনিক তাসনিম রিফাতসহ দুজন সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।



