দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায়।
তিনি সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সরাসরি ইংরেজি পাঠ্যবইয়ের ক্লাস নিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রামদীঘা একতা উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি এই পাঠদান করেন।
বর্তমানে মধ্যনগর উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দাপ্তরিক কাজের ফাঁকে হঠাৎ ইউএনওকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক হিসেবে পেয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন বিস্মিত হয়েছে, তেমনি আনন্দিত ও উদ্বেলিত হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টার এই বিশেষ ক্লাসে তিনি অত্যন্ত সহজ, সাবলীল ও আনন্দদায়ক পদ্ধতিতে ইংরেজি বিষয়ের বিভিন্ন জটিল দিক শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। শুধু চিরাচরিত পাঠদানই নয়, প্রশ্নোত্তর ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে তিনি পুরো শ্রেণিকক্ষকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। একই সঙ্গে পড়া সহজে মনে রাখার বিভিন্ন অভিনব কৌশল ও পরামর্শও দেন তিনি।
ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, ইউএনও স্যার অত্যন্ত চমৎকারভাবে ইংরেজি ক্লাস নিয়েছেন। আনন্দের ছলে তাদের কঠিন পড়াগুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই ক্লাসটি তাদের কাছে দীর্ঘদিনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
রামদীঘা একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র তালুকদার বলেন, ‘একজন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও যেভাবে তিনি সাধারণ শিক্ষকের মতো শ্রেণিকক্ষে এসে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং তাদের ভবিষ্যতে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখাবে।’
শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রসঙ্গে ইউএনও জনি রায় বলেন, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াতে আমি ভীষণ আনন্দ পাই। জ্ঞান বিতরণের মতো মানসিক তৃপ্তি আর কিছুতে নেই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর ফলে পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে জানারও একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়।’
তিনি আরও বলেন ‘একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী ও দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সামান্যতম ভূমিকা রাখতে পারাও আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’




