বাউফলে খাল থেকে ভাণ্ডারি শিল্পী আলম ফকিরের গলিত মরদেহ উদ্ধার: পেটে বাঁধা ছিল ১৭টি ইট, থানায় হত্যা মামলা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি খাল থেকে উদ্ধার হওয়া সেই অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় অবশেষে মিলেছে। নিহত আলম ফকির (৪৭) পেশায় একজন ভাণ্ডারি গান পরিবেশক ছিলেন।

 নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর তার মর্মান্তিক পরিণতি সামনে আসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে থানায় একটি পরিকল্পিত হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
​যেভাবে মিলল পরিচয়ঃ
​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর (বুধবার) থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন ভাণ্ডারি গান শিল্পী আলম ফকির। এরপর গত ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেলে পৌর শহরের বাংলাবাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন আলোকি খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
​শনিবার রাতে গণমাধ্যম বা অন্য মাধ্যমে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরদিন রোববার সকালে কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে ছুটে যান নিখোঁজ শিল্পীর স্বজনেরা।
সেখানে পুলিশের হেফাজতে থাকা উদ্ধারকৃত লুঙ্গি ও টি-শার্ট দেখে তারা নিশ্চিত করেন যে মরদেহটি আর কারো নয়, বরং নিখোঁজ আলম ফকিরেরই।
​পরিবারের তথ্যমতে, আলম ফকির তার তৃতীয় স্ত্রী ফারজানাকে নিয়ে আলোকি খালসংলগ্ন দাশপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখান থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
​গুমের জন্য ছিল অভিনব কায়দা
​কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মনিরুজ্জামান সরদার ও সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা সরওয়ার আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, উদ্ধার হওয়া আলামত ও পরিহিত পোশাক দেখে পরিবার মরদেহটি শনাক্ত করেছে।
 খুনিরা তাকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মরদেহ যেন ভেসে উঠতে না পারে এবং চিরতরে গুম হয়ে যায়—সে উদ্দেশ্যে শরীরের সঙ্গে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় প্রায় ১৭টি ইট ভরে খালের পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছিল।
 আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
​পুলিশের বক্তব্যঃ
​চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে নিহতের মেয়ে রিপা বেগম বাদী হয়ে বাউফল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
​এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন এবং পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন আলামত দেখে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এই খুনের আসল রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে এবং এর সঙ্গে জড়িত কুচক্রীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ জোরালো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top