ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকট। তার দাবি, ভোটাররা নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার না করতে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্কও করেছেন তিনি।
এদিকে সংশোধিত বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ও আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা সমান দেখানো হয়েছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলোর ১৮টি আসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে তেল আবিবে নিজের দল ইয়াশারের সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন আইজেনকট। এ সময় তিনি বলেন, ইসরায়েলিরা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে—এমন সরকার গঠনে নিজের জোটসঙ্গীদের নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
আইজেনকট বলেন, ‘আরেকটি নির্বাচন আয়োজন করা ভুল হবে। জনগণের ইচ্ছা বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সবকিছু করাই আমার দায়িত্ব।’
চূড়ান্ত ফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি বলে স্বীকার করেন আইজেনকট। তবে তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর শাসনের বিরোধিতা করা আরও বড় ও শক্তিশালী একটি ‘জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতা’র মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নেতানিয়াহুকে সরাসরি উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার করার দুঃসাহস দেখাবেন না।’
নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতিও আহ্বান জানান আইজেনকট। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। তাদের দায়িত্ব জনগণের সেবা করা।
আইজেনকট বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনারা শুধু ইসরায়েলের নাগরিকদের স্বার্থেই কাজ করেন’। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান তিনি এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
আইজেনকট ঘোষণা করেন, বিভাজন ও উসকানির রাজনীতির যুগ শেষ হয়েছে। তিনি এমন একটি জায়নবাদী সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন, যার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ।
চ্যানেল ১৩-এর হালনাগাদ বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোট এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা সমান দেখানোর পর তার এই বক্তব্য সামনে আসে। জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে দুই জোটই ৫১টি করে আসন পেতে পারে। আরব দলগুলোর জন্য দেখানো হয়েছে ১৮টি আসন।
এর আগে চ্যানেল ১২-এর বুথফেরত জরিপে আইজেনকটের জোট ৫২টি, নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি এবং আরব দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কোনো জরিপেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো জোট।
চ্যানেল ১২ আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটকে দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল এবং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সুপারিশের ওপর।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবার ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ ভোটদানের হার। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটদানের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়) ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা শুরু হয়। তবে বুথফেরত জরিপের ফল কেবল পূর্বাভাস, এগুলো আনুষ্ঠানিক ফল নয়।
আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




