জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী ও বিপ্লবী চেতনাকে ধারণ করে কুমিল্লার সনাতন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আবহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে একতা সাংস্কৃতিক সংগঠনের ৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান। আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল স্মৃতি সম্মাননা-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আইন পেশায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকার জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হককে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল স্মৃতি সম্মাননা-২০২৬’ প্রদান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের আলোকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা নজরুলের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রতিবাদী চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে দর্শন নজরুল তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে তুলে ধরেছেন, বর্তমান সময়েও তার গুরুত্ব রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ধর্ম ও পানিসম্পদ মন্ত্রী এম. নাজিম উদ্দিন আল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী।
ক্যান্সার গবেষক ও গণস্বাস্থ্য হোমিওর চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ডা. এস. এম. সরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মোঃ সফিকুল আলম বাবুল।
বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে প্রেম, দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তাঁর সৃষ্টিকর্মে শোষণ-বঞ্চনা, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পাশাপাশি মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তাই নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের সম্পদ নয়; প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা মানবিক সমাজ নির্মাণের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণী ব্যক্তিদের হাতে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল স্মৃতি সম্মাননা-২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আইন পেশায় বিশেষ অবদানের জন্য অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হককে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী ও জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দীন (নাসির), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসাসের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শওকত আজিজ, এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান উপদেষ্টা তাশিক আহমেদ, চিত্রনায়ক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক ফিরোজ শাহী, জিসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরী, মুন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ জামাল হোসেন, মেসার্স ইকরা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ লিটন হোসেন এবং কবি ও ব্যাংকার কাজী আবু তাহের।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এটিএম মমতাজুল করিম, সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ শাহ কামাল (শ্যামল), একতা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি মোঃ নূর-উল-আলম, জাগ্রত ব্যবসায়ী ও জনতার চেয়ারম্যান কবি শিহাব রিফাত আলম, গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী ম. রহমান মিলকী, মিরর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন, সমাজসেবক হারুন অর রশিদ, কোভিড-১৯ হিরো আসিফ ইমাম এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মোঃ আসলাম আহামেদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
একতা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিনের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলা সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন। উপস্থাপনায় ছিলেন মডেল ও উপস্থাপক রাজিবুল হক রনি।
আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন শিল্পীরা। দর্শক-শ্রোতারা আগ্রহ ও উৎসাহের সঙ্গে এসব পরিবেশনা উপভোগ করেন।
আয়োজকদের মতে, একতা সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শুধু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নয়; বরং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রয়াস। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
নজরুল স্মরণ, গুণীজনের সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সমন্বয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি একতা সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাঁচ বছর পূর্তিকে একটি বর্ণাঢ্য আয়োজনে পরিণত করে। অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্ব ছিল আইন পেশায় বিশেষ অবদানের জন্য অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হকের সম্মাননা প্রাপ্তি।




