মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা সফর: অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা আরও সাত চিকিৎসককে দ্রুত মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
​আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আকস্মিক এই পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতি, সেবার মান ও সার্বিক পরিবেশের খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে দুই অসহায় রোগীকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত মোট ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে পরিদর্শনকালে ১২ জনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এর মধ্যে সাতজন প্রেষণে (সংযুক্তি) অন্যত্র কর্মরত রয়েছেন এবং পাঁচজন কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত।
​দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা পাঁচ চিকিৎসক হলেন—ডা. তুহিবুর রহমান (২২ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে), ডা. সমরজিৎ সাহা (২৯ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে), ডা. ফারহান ইমতিয়াজ (২৭ এপ্রিল ২০২৩ থেকে), ডা. যোবায়ের ইবনে সামস (২৩ নভেম্বর ২০২৩ থেকে) এবং ডা. সুচেতা ভট্টাচার্য (৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে)। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
​পরিদর্শন শেষে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আধুনিকায়ন পরিকল্পনার আওতায় হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০ শয্যা ও নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার বিশেষায়িত ওয়ার্ড, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি ইউনিট এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালু করা হবে।
​মন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এই উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া আগামী ১ নভেম্বর নতুন যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকে মুরাদনগর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।
​হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ভেতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও সমান জরুরি। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ স্বাস্থ্যসেবার জন্য বড় হুমকি।’
​উপজেলায় বর্জ্য ফেলার উপযুক্ত জমির সংকটের কথা হাসপাতালের কর্মীরা জানালে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালের অকেজো যানবাহনগুলো দ্রুত নিলাম বা কন্ডেমনেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যে নতুন অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের আশ্বাস দেন।
​পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে। মুরাদনগর হাসপাতালের সেবার মান আগের চেয়ে ভালো হলেও কিছু অনিয়ম নজরে এসেছে। সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।’
​চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নতুন চিকিৎসক নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সমন্বয়ে মুরাদনগরের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

চরভদ্রাসনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নেতাকর্মীদের

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

Scroll to Top