মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে দেশের এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারে। পুরোপুরি আমদানিনির্ভর এই জ্বালানির সরবরাহব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বাজারে মিলছে না সিলিন্ডার। তবে অতিরিক্ত দাম দিলেই মিলছে রান্নার অন্যতম এই জ্বালানি।
এমন পরিস্থিতিতে আবারও এলপিজির দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দাম সমন্বয়ের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার গণশুনানির আয়োজন করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে বাজারে সরবরাহ সংকট, অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও সিন্ডিকেটের দাপটে ভোগান্তিতে রয়েছেন গ্রাহকেরা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিজস্ব গ্যাসকূপ খনন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার তদারকি ও সরকারি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
এলপিজির দাম নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। অক্টোবর পর্যন্ত ছয়বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইবার দাম কমলেও চার দফায় মোট বেড়েছে ৯৫৪ টাকা। তারপরও নির্ধারিত দামে পণ্যটি পাওয়া যাচ্ছে না। সংকটের মধ্যে সিন্ডিকেটের দাপট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে অসহায় হয়ে পড়েছেন ভোক্তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে এলপিজির দাম কিছুটা বাড়লেও দেশের বাজারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম যাচাইয়ের পাশাপাশি দরিদ্র গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।
আইআইইএফএ’র লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, অতি দরিদ্র মানুষের জন্য ভারত সরকারের মতো কম দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি এলপিজির দাম পুনর্মূল্যায়ন করে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে তা যাচাই করা প্রয়োজন।
সংকট মোকাবিলায় মজুত সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিজস্ব গ্যাসকূপ খননে জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আমদানিনির্ভরতা কমানোই দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট থেকে উত্তরণের অন্যতম পথ।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, চালের দাম বেড়ে গেলে সরকার বাজারে সরবরাহ বাড়াতে চাল কেনে এবং ট্রাকে বিক্রির ব্যবস্থা করে। একইভাবে এলপিজির দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য সরবরাহ ও মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারের অন্তত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এলপিজি সরবরাহের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।
বর্তমানে দেশে মাসে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ১২ কেজি ওজনের প্রায় ৮৩ লাখ সিলিন্ডার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছায়।




