পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানখালি গ্রামের সন্তান অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রাজ্জাক। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর ধরে আইন পেশায় যুক্ত থেকে তিনি আইন অঙ্গনে নিজের কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই আইনজীবী গলাচিপা-দশমিনার মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজেও সহযোগিতা করে আসছেন বলে জানা গেছে।
অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রাজ্জাকের পিতা মরহুম হাসেম আলী সিকদার। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানখালিতে। নিজ গ্রামের পানখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে রংপুরের সৈয়দপুরে পড়াশোনা করেন। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত টাঙ্গাইলের বিবেকানন্দ হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেন। পরে চিকনিকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং গলাচিপা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। তবে পিতা-মাতার ইচ্ছা ছিল, তিনি আইনজীবী হবেন। সেই ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৮৭ সালে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৮৮ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯০ সালে তিনি ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এ ছাড়া লিবার্টি ল’ কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রভাষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ট্যাক্সেস বার-এরও সদস্য।
অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারেও রয়েছে আইন পেশার ঐতিহ্য। তাঁর বড় ভাই সাবেক সেনাবাহিনী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আব্দুর রাজ্জাকের বড় মেয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
দীর্ঘ আইন পেশায় অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সিনিয়র কোর্ট রিপোর্টার হিসেবেও কাজ করছেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ চারটি ব্যাংক এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র প্যানেল আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আইন পেশার পাশাপাশি মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি আবেদিন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ট্রাস্টের মাধ্যমে গলাচিপা-দশমিনা এলাকার বিভিন্ন মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সহযোগিতাসহ নানা ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
গলাচিপা-দশমিনার মানুষের আইনগত অধিকার রক্ষা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, দক্ষতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপসহীন থাকার বিষয়টিও তাঁর পরিচিতজনদের আলোচনায় উঠে আসে।
স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, আইন পেশায় অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রাজ্জাক ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবেন।




