সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীর তীর ঘেঁষে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এতে নদীভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছেন পার্শ্ববর্তী রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামসংলগ্ন বড়গাং নদীর পাড়ে রুপা মিয়া নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে প্রতিদিন বালুবাহী নৌকা থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা হিসাবে প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে দাবি তাঁদের। এ কার্যক্রমের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রূপচেং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল জৈন্তাপুর মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।
জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত মাসুদ ভূইয়া বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর অভিযুক্ত চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়। নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সত্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট জায়গার মালিকানা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। কেউ জায়গাগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন, আবার কেউ সরকারি বলে দাবি করছেন। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
অভিযোগকারী আব্দুল জলিল ও আলমের দাবি, নদীর পাড় কেটে যেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেই জায়গার মূল মালিক ছিলেন তাঁদের দাদা কালা রাজা মজুমদার। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে রুপা মিয়া এর আগে বালু ব্যবসায়ীদের কাছে জায়গার একটি অংশ ৫৩ লাখ টাকায় সাবলিজ দিয়েছেন। বাকি অংশ থেকে তিনি ও তাঁর লোকজন নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায় করছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, বালু উত্তোলন ও বিক্রি বৈধ হলে কালা রাজা মজুমদারের উত্তরাধিকারীরা তাঁদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কেন? আর উত্তোলন অবৈধ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বালু উত্তোলন ও অর্থ আদায়ের কার্যক্রম চলায় তাঁরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন। প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে কারা চাঁদাবাজি করছে, সে বিষয়ে তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, নদীর তীর ঘেঁষে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে আবাদি জমি ও বসতভিটা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
এ অবস্থায় বড়গাং নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর পাড় রক্ষা, জায়গার মালিকানা নির্ধারণ এবং নৌকাপ্রতি অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।




