সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সফল অভিযান: কুখ্যাত ‘নানা ভাই বাহিনী’র প্রধানসহ ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

​বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানের মুখে সুন্দরবনের অন্যতম কুখ্যাত দস্যু ‘নানা ভাই বাহিনী’র প্রধানসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছে। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বিকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আত্মসমর্পণ ও অভিযানের বিস্তারিত

  • আত্মসমর্পণের সময় ও স্থান: গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) বিকাল ৬টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় বাহিনীটি আত্মসমর্পণ করে।
  • অভিযানের নেপথ্য: উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা ও সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর টানা সাফল্যের ফলেই এ আত্মসমর্পণ সম্ভব হয়েছে।
  • বিগত সাফল্য: বিশেষ এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে কোস্ট গার্ড এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জন নিরীহ মানুষকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারে ফিরিয়ে দিয়েছে। এছাড়া পূর্বে ‘ছোট সুমন বাহিনী’, ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’ ও ‘ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সদস্যসহ মোট ৩৭ জন ডাকাত আত্মসমর্পণ করেছিল।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ

​আত্মসমর্পণকালে ডাকাত দল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও যোগাযোগ সরঞ্জাম কোস্ট গার্ডের নিকট জমা দেয়:

  • আগ্নেয়াস্ত্র: ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রী গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার এবং ২টি এয়ার গান।
  • গোলাবারুদ: ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা এবং ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা।
  • অন্যান্য সরঞ্জাম: ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পরিচয়

​দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসা এ বাহিনীর সদস্যরা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা:

  • খুলনা (পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া): জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬ – বাহিনী প্রধান), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬)।
  • সাতক্ষীরা (শ্যামনগর): শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫)।
  • বাগেরহাট (রামপাল): আজিজুর রহমান (৪৫)।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও কোস্ট গার্ডের বার্তা

  • আইনানুগত ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা: আটককৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ হস্তান্তরের পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
  • কঠোর হুঁশিয়ারি: সুন্দরবনের অন্যান্য সক্রিয় দস্যুদের দ্রুত আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রেস ব্রিফিং কর্মকর্তা: কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহ্‌দীন, নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস কামরুজ্জামান।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বনদস্যু দমনে কোস্টগার্ডের সফল ভূমিকা সুন্দরবনের বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের বনদস্যু নানা ভাই বাহিনীর প্রধান

Scroll to Top