চট্টগ্রামে ফায়ারিং অনুশীলনের সময় সেনাসদস্য সৈনিক (গানার) তাসনিম রিফাতের (২৮) মৃত্যুতে রাজশাহী পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রিফাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকে আচ্ছন্ন এক পরিবেশ। সুপ্রভাত ভোরের আলো ফুটতেই গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ এসে ভিড় জমান তার বাড়িতে। তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রিফাতের মা। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী বাবা আসাদুল হক।
রিফাত চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে থাকতেন রিফাত। কন্যাসন্তানকে ঘিরে দেখা তার সুন্দর স্বপ্নগুলো মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেল। স্বজনদের সঙ্গে শেষ ভিডিও কলেও পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছিলেন তিনি।
চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। তার বড় ভাই এবি মাহমুদ দীপ্ত এবং ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বিশাল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার ছিল নিবিড় সম্পর্ক। আকস্মিক এই মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা।
নিহত তাসনিম রিফাতের বাবা আসাদুল হক বলেন, গত কুরবানি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল সে। এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। সবশেষ কয়েকদিন আগে ভিডিও কলে কথা বলেছিল রিফাত। তিনি আরও বলেন, আমার জীবনটা বড় কষ্টের। স্ত্রীকে হারিয়েছি ক্যান্সারে। এখন ছেলেও চলে গেল। বাবার কাঁধে ছেলের লাশ কতটা ভারী তা বোঝাতে পারবো না! মায়ের কবরের পাশে সিফাতকে দাফন করা হবে।
গতকাল বুধবারদুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় মারা যান রিফাত। সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে করে রিফাতের মরদেহ ঢাকায় হয়ে রাজশাহী সেনানিবাসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেনানিবাস থেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেয়ার পর জানাজা শেষে বিন্দারামপুর গ্রামে মায়ের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।




