নতুন প্রাণ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় কেরানীগঞ্জের কদমতলী ও বেগুনবাড়ি খাল

একসময় ছিল নৌযান চলাচলের পথ, এখন ময়লা-আবর্জনায় বিপর্যস্তপুনঃখনন ও দখলমুক্তির উদ্যোগে জেগেছে আশার আলো
একসময় যে খাল ছিল কেরানীগঞ্জের মানুষের জীবন-জীবিকা, যোগাযোগ ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সময়ের ব্যবধানে সেই খালই পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। দখল, দূষণ ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটে পড়া কদমতলী ও বেগুনবাড়ি এলাকার খাল এখন আবারও নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়।
সরেজমিনে তোলা ছবিতে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন অংশে জমে আছে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক, পলিথিন, গৃহস্থালি বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা। কোথাও কোথাও পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কিছু অংশে খনন ও মাটি অপসারণের কাজ চলায় খালের পুরোনো চেহারা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে শুভাঢ্যা খাল ও এর শাখা-প্রশাখাগুলো কেরানীগঞ্জের মানুষের যোগাযোগ ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, একসময় এই খাল দিয়ে যাত্রী ও মালবাহী নৌযান চলাচল করত এবং আশপাশের বহু এলাকার মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠে নানা স্থাপনা। একই সঙ্গে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। কদমতলী, ঝাউবাড়ি, বেগুনবাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন অংশে খালের জায়গা দখল ও দূষণের অভিযোগও
খাল উদ্ধারে অতীতেও একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০০৭ সালে শুভাঢ্যা খালের একটি অংশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পুনঃখনন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১২ ও ২০১৫ সালেও খাল পুনঃখনন, দখলমুক্তকরণ ও তীর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে কাজ শেষ হওয়ার পর আবারও বিভিন্ন স্থানে দখল ও দূষণ ফিরে আসে।
সাম্প্রতিক সময়েও কেরানীগঞ্জে খাল পরিষ্কার ও পুনঃখননের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে খালের বর্জ্য অপসারণ, পুনঃখনন এবং তীর সংরক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খালের পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা ও ভবিষ্যতে দখল রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শুধু খনন নয়, চাই স্থায়ী সংরক্ষণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, এবার যেন খাল পরিষ্কার ও খননের কাজ কেবল প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। খালের দুই পাশে ময়লা ফেলা বন্ধ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ধরে রাখতে হবে।
একসময় যে খাল ছিল নৌযান চলাচলের পথ, জীবিকার উৎস ও এলাকার প্রাকৃতিক জলাধার, সেই খাল আবারও স্বচ্ছ পানির প্রবাহে ফিরে আসুক—এটাই এখন কেরানীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা।
কদমতলী ও বেগুনবাড়ি খালের বর্তমান চিত্র তাই শুধু একটি খালের দুরবস্থার গল্প নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া এক জলপথের ইতিহাস এবং নতুন করে তাকে বাঁচিয়ে তোলার প্রত্যাশার গল্প।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top