সম্প্রতি পাবনার তিন কিশোরী—মরিয়ম, আঁখি ও সিনথিয়ার নিখোঁজ হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা পাবনা থেকে ঢাকায় এবং পরে কুড়িগ্রাম হয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, তিন কিশোরীকে কুড়িগ্রাম থেকে পাওয়া গেছে।
তিনজনই অল্পবয়সী হওয়ায় তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে এত দূরে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বর্তমান বিনোদনজগতে বিভিন্ন তারকা, ব্যান্ড ও অনলাইন ব্যক্তিত্বের প্রতি কিশোর-কিশোরীদের আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। জানা গেছে, তিন কিশোরী দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড BTS-এর ভক্ত। তবে কোনো শিল্পী বা ব্যান্ডকে পছন্দ করার সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে দূরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সরাসরি যুক্ত করা সমীচীন নয়।
এ ঘটনায় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—তিন কিশোরী কীভাবে পাবনা থেকে কুড়িগ্রাম গেল, তারা নিজেরাই পুরো পরিকল্পনা করেছিল কি না এবং এ যাত্রাপথে কেউ তাদের সহযোগিতা বা উৎসাহ দিয়েছিল কি না।
এ ছাড়া তারা কারও সঙ্গে মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করেছিল কি না, কার সঙ্গে অনলাইনে কথা বলেছিল এবং কুড়িগ্রাম যাওয়ার পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
তিন কিশোরীকে কুড়িগ্রাম থেকে পাওয়া গেলেও ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। এটি তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি অন্য কারও প্ররোচনা, সহযোগিতা কিংবা প্রভাব ছিল—তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে।
বিশেষ করে তারা অল্পবয়সী হওয়ায় কোনো মানব পাচারকারী চক্র বা অন্য কোনো ব্যক্তি তাদের যাত্রায় জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে তদন্তে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া না পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে তিন কিশোরীর যাত্রার উদ্দেশ্য, যোগাযোগের সূত্র এবং তাদের কুড়িগ্রাম পর্যন্ত যাওয়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।




