গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তির শেষ কোথায়

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নাগরিকরা। স্বাভাবিক নিয়মে আবেদন করেও নির্ধারিত সময়ে সেবা না পাওয়ায় দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসার নুর উল্লাহ যোগদানের পর থেকে এনআইডি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তি বেড়েছে। নতুন এনআইডির আবেদন, সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে আবেদন করার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক আবেদন এক থেকে দুই মাস বা তারও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকার অভিযোগও করেছেন সেবাপ্রার্থীরা।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আশরাফুল অর্থের বিনিময়ে আবেদন ফাইল প্রস্তুত করা এবং ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়ার কাজ করছেন। যারা স্বাভাবিক নিয়মে ফাইল জমা দিচ্ছেন তাদেরকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আশরাফুল ছাড়াও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে অফিসের আরও কয়েকজন কর্মচারী জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ায় সাধারণ আবেদনকারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের বারবার নির্বাচন অফিসে যাতায়াত করতে হচ্ছে, ফলে সময় ও অর্থ দুটিই ব্যয় হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাপ্রার্থী বলেন, স্বাভাবিক নিয়মে এনআইডির জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। কয়েকবার নির্বাচন অফিসে এসে খোঁজ নিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। এতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
ভুক্তভোগী আবু সাইদ বলেন, এনআইডি সংক্রান্ত একটি কাজে নির্বাচন অফিসে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে সেবা পাইনি। বারবার অফিসে গিয়েছি। দূর থেকে আসা মানুষের জন্য এভাবে একাধিকবার অফিসে আসা খুবই কষ্টকর।
সেবাপ্রার্থী মিলন বলেন, আমরা নিয়ম মেনে আবেদন করে অপেক্ষা করছি। অথচ অফিসে দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়ে নানা কথা শুনতে হচ্ছে। বিষয়টি সত্য হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আকাশ আলী নামের একজন বলেন, নির্বাচন অফিসে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে আসে। সেখানে হয়রানি বা অযথা দেরি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষের উচিত আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা। কেউ অর্থের বিনিময়ে কাজ করে থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এক-দুই মাস সময় বেঁধে দিয়ে কেন এনআইডি করতে হবে? স্বাভাবিক যে নিয়ম রয়েছে, সেই নিয়মে পরিচয়পত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হলে মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং কেউ আর্থিক সুযোগ নেওয়ার সুযোগ পাবে না।
সুমন হোসেন নামের একজন বলেন, এনআইডি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র। এটি পেতে যদি দুই মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে মানুষের বিভিন্ন কাজে সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা চাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা, সেখানে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তারা এসব অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফাইল প্রস্তুত করা, ছবি তোলা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার তারিখ নির্ধারণের মতো কাজ করতে পারেন কি না এবং এসব কাজে তার কোনো দায়িত্ব রয়েছে কি না জানতে গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসার নুর উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে অফিসে এসে সাক্ষাতে কথা বলার জন্য বলেন।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাবিদ হোসেন বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বনদস্যু দমনে কোস্টগার্ডের সফল ভূমিকা সুন্দরবনের বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের বনদস্যু নানা ভাই বাহিনীর প্রধান

Scroll to Top