সাকের হোসেনের মাথায় মিলল বুলেটের অংশ: মাগুরায় যুবদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তোলপাড়, প্রতিবাদে চলছে সড়ক অবরোধ
সাদ্দাম হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি,(মাগুরা) মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের (৩৮) আকস্মিক ও চাঞ্চল্যকর মৃত্যু ঘিরে পুরো জেলায় গভীর উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ‘রয়েল এক্সপ্রেস’ কাউন্টার থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক ধারণায় হৃদরোগ বা স্ট্রোকের কথা বলা হলেও, হাসাপাতালে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তাঁর মাথার পেছনে ছিদ্রের চিহ্ন দেখা যায়। পরবর্তীতে মাথার ভেতর থেকে সরাসরি বুলেটের অংশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নেয় এবং এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনতা রাজপথে নেমে এসেছেন; বর্তমানে মাগুরার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে।
ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের চিত্র স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি রয়েল এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।ভোর ৬টার দিকে কাউন্টারের ভেতর তাঁকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাইনুল হাসান পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষা করার সময় সাকের হোসেনের মাথার পেছনে একটি গভীর ছিদ্রের চিহ্ন দেখতে পেয়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়।
রাজনৈতিক পটভূমি ও স্বজনদের অভিযোগনিহতের পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের দাবি, এটি স্পষ্টতই একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং সাকের হোসেনকে গুলি করেই হত্যা করা হয়েছে। জানা গেছে, রাজনৈতিক জীবনে নিহত সাকের হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ১০টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি বাস টার্মিনালের কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা গুঞ্জন চলছে।পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, পুলিশ খবর পেয়ে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। সাকের হোসেনের মাথার পেছনে ছিদ্রের চিহ্ন ও ভেতরে বুলেটের অংশ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও চলমান তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।তদন্ত ও সত্য প্রকাশের দাবিএকটি তাজা প্রাণ ও উদীয়মান যুবনেতার এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে মাগুরাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্বজন ও স্থানীয়দের একটাই দাবি—কোনও ধরনের কালক্ষেপণ না করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করতে হবে এবং এই অপরাধের পেছনে থাকা মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করতে হবে।




