নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের আতশপাড়া গ্রামে মধুমতী নদীর তীব্র ভাঙনে ঝুঁকির মুখে পড়েছে কয়েকশ ঘরবাড়ি। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বসতভিটাসহ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে নদীতীর রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নড়াইল কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা নদীভাঙনকবলিত আতশপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটছে না নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয়রা জানান, মধুমতী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে এলাকার বিভিন্ন স্থানে বসতভিটা ও আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিদিনই নদীর পাড়ের মাটি ধসে পড়ায় নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বহু পরিবারকে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হতে পারে।
মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রুবেল মাহমুদ বলেন, “মধুমতী নদীর ভাঙন আতশপাড়া এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আরও অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল শেখ বলেন, “নদীর পাড় যেভাবে ভাঙছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অনেক বাড়িঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দ্রুত কাজ শুরু করা হলে বসতভিটা ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।”
নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকারী জনতার খবর-এর নড়াইল প্রতিনিধি মাজহারুল শুভ্র বলেন, “এ মৌসুমে নদীভাঙনের ক্ষতি কমাতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে নদীতীরবর্তী জনবসতি, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আপাতত রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নদীশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই ইউনিয়নের করফা, মঙ্গলহাটা ও মহিষাপাড়া এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্পের আওতায় ব্লক স্থাপনের কাজ হয়েছে । তবে আতশপাড়া এলাকা এখনো ওই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের আওতায় আসেনি। ফলে স্থানীয়দের মতে, জিও ব্যাগ ফেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি আতশপাড়াকে দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্পের আওতায় এনে স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মধুমতীর ভাঙনে আতশপাড়ার বসতভিটা, কৃষিজমি ও অন্যান্য স্থাপনা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।




