রংপুরের পীরগঞ্জে বারুদহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধভাবে পরিচালনা কমিটি গঠণসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বারুদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠির সঙ্গে অভিযোগের ছায়ালিপি সংযুক্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়োগসংক্রান্ত জালিয়াতি, অবৈধভাবে পদ দখল, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের নামের তালিকা, ২০০১ সালে ভুয়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির আইডি নম্বর ও নামের তালিকা, বিভিন্ন আদালতের আদেশ ও রায়ের অনুলিপি এবং মামলা-সংক্রান্ত নথিপত্র রয়েছে। পাশাপাশি ২০০২ সালে দায়িত্ব ও পদসংক্রান্ত বিরোধ এবং ২০২৩ সালে অবৈধভাবে পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে বিভিন্ন সময়ে চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করা হয়েছে। তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। আজ ৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের বক্তব্যে
জানা গেছে, মাউশি থেকে দুই সদস্যের একটি তদন্ত টীম ও পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ২৯/১০/২০২৬ তারিখে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তদন্তকার্য সম্পন্ন করেন।
০১/০১/১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজমান সম্পর্কের কোন ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ২৭০ জন। উপস্থিতির হার সন্তোষজনক। চলতি বছরে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় ৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ২০ জন উত্তীর্ণ হয়,এ প্লাস চার জন। বিজ্ঞান বিভাগের ১৫ শিক্ষার্থীর কেউই ফেল করেনি বলে জানা গেছে। বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম ২৪/১০/১৯৯৫ তারিখ থেকে তাঁর দায়িত্ব অতি নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন,জানালেন সহকর্মী শিক্ষকগণ। প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম জানান, “একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিদ্যালয়ের জমি দখল করেছেন,তিনি প্রতিবাদ করায় তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এ সব অভিযোগ করেন।” তিনি আরও জানান,” ২০২৩ সালের জুলাই মাসে অত্র বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন অফিস সহায়ক, একজন আয়া ও একজন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ ছিল বিধি মোতাবেক সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে।”




