দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় বিয়ের দাবিতে এক হিন্দু যুবকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন টাঙ্গাইল থেকে আসা এক মুসলিম তরুণী। অভিযুক্ত যুবকের নাম বাঁধন শীল (ডালিম/নির্মল)। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই যুবককে আত্মগোপনে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আব্দুলপুর নাপিত পাড়ায়। অভিযুক্ত বাঁধন শীল ওই এলাকার লিটন শীল ও অনিতা রানী শীলের ছেলে। তাদের পরিবারে ডালিম চন্দ্র শীল ও নির্মল চন্দ্র শীল নামগুলোও রয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর নাম মোচ্ছাঃ মোহনা আক্তার। পেশায় বিউটি পার্লারকর্মী এই তরুণীর সঙ্গে নরসুন্দর (নাপিত) হিসেবে কর্মরত বাঁধন শীলের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তরুণীর দাবি, প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাঁধন শীল বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। সম্প্রতি তরুণীকে কিছু না জানিয়ে গোপনে টাঙ্গাইল থেকে নিজ গ্রাম চিরিরবন্দরে চলে আসেন বাঁধন।
বিষয়টি জানতে পেরে তরুণী মোচ্ছাঃ মোহনা আক্তার টাঙ্গাইল থেকে চিরিরবন্দরে এসে যুবকের সন্ধান পান এবং সরাসরি বাঁধন শীলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন।
অনশনরত তরুণী মোহনা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, “আমাদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের কথা বলে সে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকাও নিয়েছে। এখন সে আমাকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আমি বাঁধন শীলকে ছাড়া অন্য কিছু বুঝি না, তাকেই বিয়ে করতে চাই।”
এদিকে তরুণী বাড়িতে আসার খবর পেয়ে অভিযুক্ত যুবক বাঁধনকে পরিবারের সদস্যরা (তার ভাই ডালিম চন্দ্র শীলসহ অন্যরা) গোপনে অন্য কোথাও সরিয়ে দিয়ে আত্মগোপনে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) প্রতিনিধি ও শত শত গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তরুণী অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।




