সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক নিয়োগের লোভনীয় ফাঁদ: প্রতারকদের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত চাকরিপ্রার্থী

ডিজিটাল যুগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা। ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞাপনের টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশে এসেছে। ‘ডেইলি বাংলার সময়’ নামক একটি অনলাইন পোর্টালে সাংবাদিক নিয়োগের লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে সর্বস্বান্ত হয়েছেন কাজী শাওন রহমান নামের এক চাকরিপ্রার্থী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেসবুকে নজরকাড়া ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে কৌতূহলী হয়ে শাওন সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর তাদের দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কথা হলে প্রতারক চক্রটি তাকে নানা রকম কাজের প্রলোভন ও নিয়মকানুন বোঝাতে শুরু করে। চক্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রাথমিক খরচ বাবদ মাত্র ৩৮৫০ টাকা পরিশোধ করলেই ডাকযোগে একটি বিশেষ পার্সেল পাঠানো হবে। সেই পার্সেলের ভেতর থাকবে প্রেস আইডি কার্ড, ল্যানইয়ার্ড বা ফিতা, গাড়ির বা অন্যান্য স্টিকার, একটি বিশেষ মাইক্রফোন এবং ১ হাজার পিস ভিজিটিং কার্ড। এমনকি আজকেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে দাবি করে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য তাকে তাগিদ দেওয়া হয়।

চক্রের মিষ্টি কথায় অন্ধ হয়ে গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শাওন তাদের নির্ধারিত ৩৮৫০ টাকা পাঠিয়ে দেন এবং লেনদেনের স্ক্রিনশট প্রমাণস্বরূপ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন।

কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী ৪ দিন পেরিয়ে ৫ দিন গড়ালেও কোনো পার্সেল বা খবরের দেখা মেলেনি। এরপর থেকেই শুরু হয় লুকোচুরি খেলা। ভুক্তভোগী শাওন বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও অপর প্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এক সপ্তাহ পেরিয়ে এখন দুই সপ্তাহের দোরগোড়ায় এসেও ওই চক্রের টিকিটিও খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। মেসেজ কিংবা ফোন কল—কোনো কিছুরই আর উত্তর দিচ্ছে না সেই তথাকথিত গণমাধ্যম কর্মীরা।

হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজী শাওন রহমান বলেন, “যদি তাদের কোনো যৌক্তিক সমস্যা থেকেই থাকে, তবে তা আমাকে পরিষ্কার বলতে পারত। কিংবা যদি আমাকে তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ না-ই দেয়, তবে আমার কষ্টার্জিত টাকাগুলো ফেরত দিয়ে দিক। কিন্তু এতদিন ধরে তারা আমার ফোন রিসিভ করছে না, ম্যাসেজেরও কোনো জবাব দিচ্ছে না। এটি স্পষ্টতই আমার সাথে এক ধরণের জালিয়াতি ও প্রতারণা।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুঁইফোড় পেজ বা পোর্টাল নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই অনলাইল ভিত্তিক যেকোনো লেনদেন বা চাকরি নামক এই ইঁদুরদৌড়ে নামার আগে শতবার যাচাই-বাছাই করা উচিত। নতুবা কাজী শাওনের মতো যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ফাঁদে পড়ে পস্তাতে হতে পারে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top