হাতীবান্ধা সারের সুষ্ঠু বন্টন এর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সারের সুষ্ঠু বন্টনের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ওই এলাকার কৃষকরা।
এ সময় অবরোধে অংশ নিয়ে কৃষকরা সার ডিলারের বিরুদ্ধে রাতের আধারে কালোবাজারে সার বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সার বিতরণের অভিযোগ করেন তাঁরা। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন কৃষকরা। এর ফলে মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্নসহ যানজটের  সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ১১ টার দিকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে পারুলিয়া বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সার ডিলারের বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও স্থানীয় জাদু মেম্বার ও ভুট্টু নামের দুই ব্যক্তি সার বিতরণ করে থাকেন।
আর তাঁদের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা । কৃষকদের দাবি ডিলারের লোকজন স্থানীয়ভাবে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে গভীর রাতে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে ১০-১২ বস্তা করে সার দিচ্ছেন।
অথচ সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে যদি সার না পাই, তাহলে কৃষক ও তাঁদের পরিবার কীভাবে বাঁচবে? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি। তবুও যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি। দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়কে নেমে অবরোধ করেছি।
চরাঞ্চলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ও আজিজুল ইসলাম বলেন, ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ বন্ধ করে খোলাবাজারে সার সরবরাহ চাই। সার বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তারা।
কৃষক শফিকুল  আলম বলেন, এখন পিয়াজ রসুন, গম ও ভুট্টার আগাম চাষের মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে কীভাবে চাষাবাদ করব? সার ছাড়া জমিতে ঠিকমতো আবাদ করা যায় না। সময়মতো সার দিতে না পারলে ফসল লাল হয়ে যায়, ফলনও কম হয়। আমাদের সারা বছর সংসার চলে ভুট্টা চাষের আয়ের ওপর। এই ফসলের ওপর নির্ভর করেই পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে হয়। তাই সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, সার বিতরণের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্রয়োজনে আমরা আগামী মাসের বরাদ্দের সার দিতে পারব। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সার বিতরণ শেষ হবে। কালো বাজারে সব বিক্রির বিষয় তিনি বলেন, কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্র বলেন, ‎কৃষক ভাইদের আমরা অনুরোধ জানিয়েছি যে আপনারা ধৈর্য ধারণ করবেন, আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সার আছে। সার কার্ড যে কৃষক ভাইদের কাছে আছে, তারা সবাই সার পাবেন। এবিষয়ে আপনাদের দুশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই।
কালোবাজারে সার বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন এ ধরনের কোন অভিযোগ আমি পাইনি তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top