ফলিয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই স্বপ্ন ও পুঁজি; দিশেহারা যুবদল নেতা ইমরুল

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরুল হাসানের স্বপ্ন ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। গুদামে মজুত রাখা পাট, পেঁয়াজ, রসুন, চালসহ বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য আগুনে পুড়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি। একদিকে ব্যবসার সব পুঁজি হারানোর শোক, অন্যদিকে মাথায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ব্যাংকঋণ—সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরুল হাসানের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়া বাজারে একটি পাটের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের গুদাম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই পুড়ে যায় বাজারের আটটি পাটের গুদাম ও তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। আগুনে প্রায় তিন হাজার মণ পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল ভস্মীভূত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এ অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদ ইমরুল হাসান। তাঁর গুদামে মজুত করা প্রায় ১৫০ মণ পাট, ২০০ মণ পেঁয়াজ, ৫০ মণ রসুন এবং ৪০ মণ চালসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না তিনি।
যে ব্যবসার আয় দিয়ে চলত তাঁর সংসার, সেই ব্যবসাই এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মতো পুঁজি নেই, অথচ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের চাপ রয়েই গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
ইমরুল হাসান বলেন, “ব্যবসাই ছিল আমার পরিবার চালানোর একমাত্র অবলম্বন। অনেক কষ্ট করে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলাম। গুদামে পাট, পেঁয়াজ, রসুন, চালসহ অনেক মালামাল মজুত ছিল। চোখের সামনে নিমেষেই সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এখন আমার হাতে কিছুই নেই। ব্যবসার সব পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। এর ওপর ব্যাংকে প্রায় ১০ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব, কীভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করব—কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।”
তিনি আরও বলেন, “এমন বিপদের সময়ে মানুষের সহযোগিতা খুব প্রয়োজন। নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। আমি চাই, দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা আমার পাশে দাঁড়ান। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে হয়তো আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। আমি আবারও নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।”
বিপদের সময়ে সহযোগিতার প্রত্যাশা।
ইমরুল হাসান জানান, ভয়াবহ এই ক্ষতির পর স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। তবে ফরিদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো এই ব্যবসায়ী নেতা এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু পুঁজি হারানো, ব্যাংকঋণের চাপ এবং সংসারের ব্যয় মেটানোর দুশ্চিন্তা তাঁর সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ অবস্থায় ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা, ব্যাংকঋণ পরিশোধে সহযোগিতা এবং পুনরায় ব্যবসা শুরু করার সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
একটি অগ্নিকাণ্ড শুধু কয়েকটি গুদাম কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়নি; কেড়ে নিয়েছে বহু ব্যবসায়ীর বছরের পর বছর গড়ে তোলা স্বপ্ন, শ্রম ও পুঁজি। এখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজন মানবিক সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্যোগ। সেই সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছেন ইমরুল হাসানের মতো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top