নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে চাঁদা না দেওয়ায় আবাসন প্রকল্পের ঘর থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ খুলে নেওয়া হলো টিন-দরজা-জানালা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পদ্মারচরের পাগলাহাট বাজারসংলগ্ন সরকারি আবাসন প্রকল্প থেকে ১০–১৫টি ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ করে ঘরের টিন, দরজা-জানালা ও অন্যান্য মালামাল খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্য রুপচাঁদ মেম্বার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘরপ্রতি ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
গতকাল এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আবাসন প্রকল্পটিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৭০টি ভূমিহীন পরিবার বসবাস করে আসছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা দিতে না পারায় রাতের বেলায় তাঁদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে ঘরের আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি টিনের চাল, কাঠ, দরজা ও জানালা খুলে নেওয়া হয়। কোথাও কোথাও শুধু মাটির ভিটা ও ঘরের মেঝে পড়ে আছে।
আশ্রয় হারিয়ে কেউ অন্যের গোয়ালঘরে, কেউ বাড়ির উঠানে, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী আছিয়া, শহিদা ও মহরভান বলেন, তাঁদের কোনো জমিজমা নেই। সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘরে তিন থেকে চার বছর ধরে বসবাস করছিলেন। ঘরপ্রতি ৫ হাজার টাকা চাওয়া হলেও তা দেওয়ার সামর্থ্য তাঁদের নেই। তাঁদের অভিযোগ, টাকা দিতে না পারায় পরিবারের সদস্যদের এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
আরেক ভুক্তভোগী মতিহার রহমান বলেন, “৫ হাজার টাকা দিতে পারিনি বলে রাতের খাবার খেতে বসার সময় তারা এসে আমাদের বের করে দেয়। পাতের ভাতটুকুও খেতে দেয়নি। বউ-বাচ্চা নিয়ে বালুচরে রাত কাটিয়েছি। ঘরের টিন, দরজা-জানালা খুলে নিয়ে গেছে।”
মতিহারের অভিযোগ, রুপচাঁদ মেম্বার তাঁকে বলেছেন, আবাসনের ঘর টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে; সেখানে থাকতে হলে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে না পারলে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া বলেন, ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাঁকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। ভূমিহীন পরিবারগুলোর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top