বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের স্মৃতি, দর্শন ও মানবতাবাদী চেতনাকে ধারণ করে আবারও উৎসবমুখর হয়ে উঠছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি। লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে এখানে শুরু হওয়ার কথা তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব। এ উপলক্ষে আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে চলছে সাজসজ্জা, মঞ্চ নির্মাণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
লালনভক্ত, বাউল ও সাধুদের পদচারণায় ধীরে ধীরে মুখর হয়ে উঠছে লালনধাম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা আসতে শুরু করেছেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন।
ফকির লালন শাহ ছিলেন বাংলা লোকসংগীত ও বাউল দর্শনের অন্যতম প্রভাবশালী সাধক। তাঁর গান ও দর্শনে উঠে এসেছে মানবপ্রেম, আত্মঅনুসন্ধান, সাম্য এবং জাত-ধর্মের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার আহ্বান। তাঁর সৃষ্ট গান আজও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে অনুরণিত হয়।
লালনের গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং মানুষের জীবন, আত্মপরিচয় ও সমাজের নানা বৈষম্য নিয়ে ভাবনারও একটি পথ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তাঁর গান ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার গ্রাম থেকে শহরে, দেশ থেকে দেশের বাইরে।
প্রতি বছর লালন স্মরণোৎসব ও তিরোধান দিবসকে ঘিরে ছেঁউড়িয়ায় সমবেত হন অসংখ্য ভক্ত, বাউল ও দর্শনার্থী। গান, সাধুসঙ্গ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁরা স্মরণ করেন এই মহান সাধককে।
লালনের জীবনদর্শন আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের পরিচয় তার মানবিকতায়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে সুন্দর সমাজ।
লালন মেলা তাই কেবল একটি উৎসব নয়; এটি বাংলার লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানবতার এক অনন্য মিলনমেলা।




