ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নামজারি কার্যক্রমের সূচকে উপজেলার অবস্থান প্রথম থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যাওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ টেনে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।
উক্ত সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করবেন, আবার আমার কাছে বিজ্ঞাপন চাইবেন—এটা তো হতে পারে না।’
সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রশাসনের পেশাগত সম্পর্ক নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিসেবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নামজারি কার্যক্রমের সূচকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অবস্থান সম্প্রতি পিছিয়ে পড়ে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এই খবরটি তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। একটি সরকারি দপ্তরের সেবার মান কেন কমল, আবেদন নিষ্পত্তির হার কমেছে কি না কিংবা সেবাপ্রার্থীরা কোনো ভোগান্তিতে পড়ছেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার।
সংবাদ প্রকাশের পর দপ্তরের পারফরম্যান্স ও উত্তরণের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও, এসিল্যান্ড কর্তৃক বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ টেনে আনা মূল প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়টি আড়াল করার অপচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট রাখা নয়, বরং বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে জনস্বার্থ রক্ষা করা। প্রকাশিত সংবাদে কোনো তথ্যগত বিভ্রান্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য দেওয়া, ব্যাখ্যা করা কিংবা তথ্য সংশোধনের দাপ্তরিক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে বিজ্ঞাপন চাওয়ার বিষয়কে মুখোমুখি দাঁড় করানো প্রশাসনিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
ঘটনার বিষযে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাসের সাথে সরাসরি কথা বলতে সকাল ১০টায় তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অবশেষে হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেন। প্রশাসনিক সংবাদ প্রকাশের পর এ ধরনের বক্তব্য কোন নীতিমালার আলোকে দিয়েছেন—জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘বিজ্ঞাপন যে আপনাদেরকে দিতে হবে, এমন কোনো নীতিমালাও তো নেই।’
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসনিক জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার এই মানসিকতা পেশাদার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজ।




