জনসেবাই যাঁর ব্রত দোয়ারা বাজার উপজেলার রাজনীতিতে এক অনন্য নাম আবুল হোসাইন

কোনো মানুষকে কেবল তাঁর পারিবারিক আভিজাত্য, ব্যবসায়িক অবস্থান কিংবা দলীয় পদ-পদবি দিয়ে বিচার করলে সেই মূল্যায়ন সর্বদাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। একজন প্রকৃত নেতার মূল শক্তির উৎস তাঁর শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখকে কাছ থেকে উপলব্ধি করার সক্ষমতা। নেতৃত্ব কেবল ব্যালট বাক্সের জয়ে শুরু হয় না; এর ভিত্তি তৈরি হয় বহুমাত্রিক কর্মপ্রয়াসে। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষানবিশ-কালীন সময়ের সহপাঠী ও সুহৃদ, বড়খালের সম্ভ্রান্ত পরিবারের দানবীর মরহুম হাজী মফিজ আলী সাহেবের কনিষ্ঠ সন্তান রোটারিয়ান এম আবুল হোসাইন তেমনই এক ব্যক্তিত্ব, যিনি নিজের সততা, উদারতা এবং কর্মদক্ষতায় স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজসেবায় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
​ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সামাজিক দায়বদ্ধতা
আবুল হোসাইনের ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের পেছনে তাঁর পারিবারিক মূল্যবোধের এক বিশাল অবদান রয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশে তাঁর পরিবার বাংলা বাজার জনপদে যে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছে, তা সর্বজনবিদিত। স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভূমি দানসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে এই সম্ভ্রান্ত পরিবারের অবদান অসামান্য। পারিবারিক এমন এক উদার ও জনকল্যাণমুখী আবহেই বেড়ে উঠেছেন আবুল হোসাইন, যা শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে প্রথিত করেছে জনসেবার বীজ।
​
 তৃণমূলের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।
​নির্বাচনে জয় লাভ করাকেই আবুল হোসাইন কখনো নেতৃত্বের শেষ কথা মনে করেননি। তিনি বিশ্বাস করেন নির্বাচন একজন প্রতিনিধিকে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব দেয় কিন্তু নিরলস কাজই তাকে মানুষের কাছে স্মরণীয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। জনপ্রতিনিধিত্ব একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করা একটি পরম নৈতিক দায়িত্ব। নিজের সমর্থকদের বাইরে গিয়ে, যারা ভোট দেয়নি তাদের প্রতিও সমানভাবে দায়িত্বশীল থাকাই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়—আর এই নীতিতেই তিনি অটল থেকেছেন।
​প্রতিবন্ধকতা, আইনি লড়াই ও জনতার অবিচল আস্থা
জনপ্রিয়তাই অনেক সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের ষড়যন্ত্র ও একের পর এক মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে রোটারিয়ান এম আবুল হোসেনকে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একাধিক মামলা-মোকদ্দমা সামলে তাঁকে এক কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। তবে সত্যের জয় সবসময়ই অনিবার্য। সকল আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক ঝড়ঝাপ্টা অতিক্রম করে গত ৫ আগস্টের পর তিনি পুনরায় স্বগৌরবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ারে অধিষ্ঠিত হন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জনগণের অধিকার রক্ষায় তাঁর এই অবিচল অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে এক অনন্য নজির গড়েছে।
​
চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পুনর্গ্রহণের পর তিনি বাংলা বাজার ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি এক উদার আহ্বান জানিয়েছেন। অতীতের হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সঙ্গে নিয়ে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
​সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা ব্যক্ত করে বলেন জনগণের সেবা করাই আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য। অতীতের সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমরা এখন এক নতুন সম্ভাবনার পথে হাঁটছি। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে জনগণ আবারও সুযোগ দিলে বাংলা বাজার ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করব।
​তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন এলাকার সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ তরান্বিত করার পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। যেসব মানুষ এতদিন তাঁদের সামাজিক ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে পূর্ণ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
​জনসেবাকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা রোটারিয়ান এম আবুল হোসাইন কেবল একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নন তিনি আজ সর্বস্তরের মানুষের আস্থার প্রতীক। শিক্ষা সংস্কৃতি সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক উদারতার মেলবন্ধনে তিনি বাংলা বাজার ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top