‎সুন্দরবনে রায় নদীতে পর্যটকবাহী ট্রলার ডুবল, ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করল নৌ পুলিশ

‎​খুলনার কয়রার সুন্দরবনসংলগ্ন রায় নদীতে ডুবে যাওয়া একটি পর্যটকবাহী বোটসহ ৯ জনকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করেছে আংটিহারা নৌ পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এতে রক্ষা পেয়েছেন বোটে থাকা সব যাত্রী।
‎​শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে সুন্দরবনের শিঙের টেকসংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
‎​নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য ও শিঙের টেক এলাকা ভ্রমণ শেষে পর্যটকবাহী একটি কাঠের তৈরি ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি রায় নদী দিয়ে ফিরছিল। পথিমধ্যে নদীর মাঝখানে থাকা একটি ডুবন্ত মরা গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রলারটির তলা ফেটে যায় এবং দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই বোটটি নদীতে তলিয়ে যেতে থাকলে বিপাকে পড়েন বোটে থাকা ৯ জন যাত্রী ও চালক। এ সময় কয়েকজন সাঁতরে নদীর তীরে ওঠার চেষ্টা করেন, আবার কয়েকজন নদীতে ভেসে থাকা গাছের ডাল ও নৌকার অংশ ধরে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালান।
‎​দুর্ঘটনার তথ্য ৯৯৯-এর মাধ্যমে জানতে পেরে আংটিহারা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে নামে। নদীর মাঝখান থেকে ৩ জনকে ভাসমান অবস্থায় এবং ৬ জনকে নদীর ভেতরে থাকা গাছের ডাল ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
‎​উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—নৌকার মাঝি কিসমত আলী (৪৮), নাঈম হোসেন (২২), রাকিবুল ইসলাম (১৮), মো. আশিক (২৫), মো. পলাশ হোসেন (২৩), মো. শাহিন (২৫), ইমামুল হোসেন (২৫), মো. গালিব (২৫) ও মো. আব্দুল্লাহ (২২)।
‎​উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেন আংটিহারা নৌ পুলিশের এসআই দিদারুল আলম, এএসআই মো. সাদ্দাম হোসেন, আবুল কালাম আজাদ ও হৃদয় তালুকদার।
‎​আংটিহারা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুখ হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবাইকে নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশের টহল নৌকায় তুলে নিরাপদে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং ডুবে যাওয়া বোটটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ সংবিধানসম্মত নয়: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছেন, টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পররাষ্ট্র

গলাচিপায় বসত ঘর আগুনে ভস্মিভূত

পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি বসত ঘর আগুনে ভস্মিভূত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রতনদীতালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া বন্দরে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে উলানিয়া বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘরটি আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বসত ঘরের দোতলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উলানিয়া বন্দরে আগুনের খবর শুনে আমরা দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি মৎস্য ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘরটি আগুনের লেলিহান শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কিছু আসবাবপত্র সরাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত বসত ঘরটি সম্পূর্ণ আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এ বিষয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘর থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসাকির্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে ২০ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

Scroll to Top