মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মরার পর দাফন না করানোর সিদ্ধান্ত গ্রামবাসীর

মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিকভাবেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় দরবার টিলা এলাকার বাসিন্দারা। মাদক সেবন, বিক্রি ও সরবরাহের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় মসজিদের মুসল্লি, মসজিদ কমিটি ও সচেতন সমাজ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে মধ্যম সোনাপাহাড় দরবার টিলা এলাকার বাইতুশ শরফ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাদক সেবন, বিক্রি, সরবরাহসহ মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহবান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মাদকের সঙ্গে জড়িতদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়া, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা আরো জানান, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি আব্দুর আল রহিম বলেন, ‘এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মসজিদের মুসল্লিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাদকের সঙ্গে জড়িতদের সামাজিকভাবে পাঁচটি বিষয়ে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর পর তাদের সামাজিকভাবে দাফন করা হবে না, মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করা হবে না, ইমাম তাদের বাড়িতে খাবার গ্রহণ করবেন না, তাদের পরিবারের সামাজিক অনুষ্ঠানে কেউ অংশ নেবেন না এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে সমাজ থেকে বহিষ্কার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন করা এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজে বাঁচতে এবং সমাজকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে।’

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ সংবিধানসম্মত নয়: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছেন, টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পররাষ্ট্র

গলাচিপায় বসত ঘর আগুনে ভস্মিভূত

পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি বসত ঘর আগুনে ভস্মিভূত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রতনদীতালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া বন্দরে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে উলানিয়া বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘরটি আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বসত ঘরের দোতলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উলানিয়া বন্দরে আগুনের খবর শুনে আমরা দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি মৎস্য ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘরটি আগুনের লেলিহান শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কিছু আসবাবপত্র সরাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত বসত ঘরটি সম্পূর্ণ আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এ বিষয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘর থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসাকির্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে ২০ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

Scroll to Top