মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পৌর ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের জন সাধারণ। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। এ সময় হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭২ ঘন্টায় ব্যার্থ্য প্রশাসন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের পারনান্দুয়ালী গ্রাম থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি মাগুরা চৌরঙ্গীর মোড় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শাকের হোসেনের খুনিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন ছাত্রদল, যুবদল, কৃষক দল, জেলা বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনতা।
সুত্র জানায় বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শাকের হোসেন। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী সহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে মাগুরা জেলা ছাত্রদলের নেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, এ সময়ের মধ্যে তাঁর ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসন যদি ব্যর্থতা পরিচয় দেন আমরা রাজপথে থেকে আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাব। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক পিকুল খান বলেন, পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে একদল সন্ত্রাসী গুলি করে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আলমগীর হোসেন পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে একদল সন্ত্রাসী গুলি করে হত্যা করেছে। ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসন প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। বিগত দিনে মাগুরা শহরে অস্ত্রের ঝানছানা কেঁপেছে মাগুরা অথচ এখনো পর্যন্ত একটা অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। একইভাবে যে সকল অস্ত্রে মাগুরা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা খুন হচ্ছে সে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হোক।
মানববন্ধনে সভাপতি ও এলাকাবাসীর পক্ষে কুতুবুদ্দিন বলেন, শাকের হোসেন ছিলেন দলের একজন ত্যাগী নেতা। তাঁকে হারিয়ে তাঁরা গভীরভাবে শোকাহত। ইতিমধ্যে নানা মিডিয়া অপপ্রচার ও মিথ্যা বানোয়াট নিউজ করছেন তাদের বলব বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপন করার জন্য। প্রশাসনকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ও বিচারের দাবি জানান তিনি।




