অভিযোগ সূত্রে জানা যায়
জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এনআইডি দিয়ে কোরিয়ান ইপিজেডের একটি কারখানায় চাকরি নিয়েছেন তিনি। আর ফেরদৌস আক্তার নামের এনআইডি দিয়ে পিতা জেবুল হোসেনের মেয়ে পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নারীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ভুয়া নাম্বারে কল করা হয়েছে দাবি করে কল কেটে দেন। স্থানীয়দের মতে, জালিয়াতির মাধ্যমেই তিনি দ্বিতীয় পরিচয়পত্রটি তৈরি করেছেন। এদিকে আনোয়ারা
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাশেদ ইকবাল জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দুটি সার্ভারে এক্টিভ রয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছাড়া আসল-নকল ধরা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারে এমন বিজোড় এনআইডি ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সর্বমহলে। এদিকে এদিকে তার কর্মস্থল আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত
ইয়ংওয়ান বাংলাদেশ গার্মেন্টসের,
কর্মচারী জান্নাতুল ফেরদৌস এর দুইটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায় ছাড়াও
ইউনিট: কেএসআই গার্মেন্টস-০১
কর্মচারী আইডি নাম্বার (২০৩৬৬৮৬৩ ) এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে
চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত ব্রাক ব্যাংক কর্মকর্তা নাহিদু ইসলাম বলেন অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস ব্রাক ব্যাংক থেকে ১ লক্ষ টাকা লোন গ্ৰহন করেন লাপাত্তা হয়ে যায় তিনি লোনের টাকা পরিশোধ না করে আত্মগোপনে চলে যায় বলে জানান তিনি আরো বলেন অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস এর বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ খেলাপি আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।এদিকে অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস এর স্বামী
এনামুল হকের অভিযোগ তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বিগত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান আসবাবপত্র নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তিনি গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আনোয়ারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী এনামুল হক আরও বলেন, তাঁদের চার বছর বয়সী শিশুকে কেন্দ্র করে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তিনি।এদিকে ভুক্তভোগী এনামুল হক এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ আদালত সূত্রে জানাযায় চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (৩) এর সি.আর. মামলা নম্বর ৭৩২/২৬ তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬ দায়ের করেন অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস।ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করে বলেন
এনামুল হকের বাবা-মা কেও মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জান্নাতুল ফেরদৌস প্রথম থেকে ঘটনা অস্বীকার করেন এবং পরে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।এদিকে অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস বলেছেন তিনি আদালতে কোন মামলা করেননি বলেও বক্তব্য দিয়েছেন বলে । কিন্তু মামলার নথি সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যের অসংগতি রয়েছে।
মামলার আরজি, এজাহার বা আদালতের প্রত্যয়িত নথি যাচাই করা না হওয়ায় মামলার প্রকৃত বাদী, অভিযোগের ধারা এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
এনামুল হক অভিযোগ করেন, আনোয়ারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও তিনি প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি। তাঁর দাবি, অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমাম অভিযুক্ত পক্ষের হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই ইমাম বলেন, এনামুল হকের লিখিত অভিযোগের কাগজ তিনি পাননি বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অভিযোগ ও মামলা তদন্ত করে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ
এনামুল হকের অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের সময় জান্নাতুল ফেরদৌসের মা আম্বিয়া খাতুন সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে গালিগালাজ করেছেন, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়েছেন এবং একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ, পরিচয়সংক্রান্ত নথির গমিল, অর্থ-সম্পদ নিয়ে অভিযোগ, শিশুর অভিভাবকত্ব এবং আদালতের মামলা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। এসব বিষয়ের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা ও স্থানীয় সমাজের জনপ্রতিনিধিরা)
অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস, সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদনে তথ্য হালনাগাদ করা হবে।




