ভারতের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডিয়ান থিয়েটার থেকে মাস্টার্স ইন ইন্ডিয়ান থিয়েটার কোর্সে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাঈম রাজ। এ অসামান্য একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সম্মানজনক ‘Dean International Students Award’ (DIS Award)-এ ভূষিত করেছে।
পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘DIS Awards and International Student Meet’ অনুষ্ঠানে ২২টি দেশের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননার অংশ হিসেবে তাকে সনদপত্র, বিশেষ ক্রেস্ট ও অর্থ চেক দেওয়া হয়।
নাঈম রাজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৬–২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। জবি থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ভারত সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘ICCR Scholarship’ লাভ করেন। এই বৃত্তির অধীনেই তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডিয়ান থিয়েটারে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। পুরো ফ্যাকাল্টির মধ্যে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করে।
অধ্যাপক কেওয়াল কৃষ্ণ (পরিচালক, ডিন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস) নাঈম রাজের এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
অধ্যাপক নমিতা গুপ্তা (পরিচালক, ডিন স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার) বলেন, “নাঈম রাজ শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নন, তিনি আমাদেরও সম্পদ। তার এই অর্জনের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল হয়েছে।”
ড. নভদ্বীপ কৌর (চেয়ারপারসন, ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডিয়ান থিয়েটার) জানান, “নাঈমের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত নয়, পুরো বিভাগের অর্জন। ভবিষ্যতে থিয়েটার চর্চায় তিনি আরও বড় ভূমিকা রাখবেন।”
অধ্যাপক মীনাক্ষী গোয়াল (উপাচার্য, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়) তার অর্জন নিয়ে বলেন, “বিভাগের প্রথম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর এ সাফল্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এটি ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে নাঈম রাজ সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও থিয়েটার চর্চায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তমঞ্চ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। থিয়েটারের পাশাপাশি পারফরম্যান্স আর্টেও রয়েছে তার বিশেষ অবদান। ২০২০ সালে তরুণ শিল্পী হিসেবে পারফরম্যান্স আর্টে বিশেষ ভূমিকার জন্য তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।




