পরোয়ানায় আটক যুবদল নেতাকে তিন চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার একটি মামলায় আটক করার পর নোয়াখালীর হাতিয়ায় হানিফ উদ্দিন নামে এক যুবদল নেতাকে আরও তিনটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, পরোয়ানার মামলায় পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর ২০২৫ ও ২০২৬ সালের তিনটি চুরির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে অন্তত দুটি মামলার এজাহারে তাঁর নামই ছিল না বলে দাবি পরিবারের।

 

এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হানিফের পরিবার। তাদের অভিযোগ, একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর একের পর এক মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তারা ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কিত।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালীর দক্ষিণ পাশে অভিযান চালিয়ে হানিফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

হানিফ উদ্দিন তমরদ্দি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আঠারোবেকি গ্রামের হাছান বেপারীর ছেলে। তিনি তমরদ্দি ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় হানিফকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ। পরে সেখানে তাঁকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের তিনটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরিবারের দাবি, এসব মামলার মধ্যে দুটি মামলার এজাহারে হানিফের নাম ছিল না।

 

হানিফের স্ত্রী রিক্তা বেগম বলেন, “একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ আমার স্বামীকে আটক করে। কিন্তু থানায় নেওয়ার পর আরও তিনটি চুরির মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমরা মনে করছি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আদালতে পাঠানোর পর আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি।

 

তিনি আরও বলেন, “একজন মানুষকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করার পর যদি একের পর এক মামলায় জড়ানো হয়, তাহলে পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা কোথায় গিয়ে ন্যায়বিচার চাইব?”

তবে পুলিশের দাবি, হানিফের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং আইন অনুযায়ীই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, “হানিফ উদ্দিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হাতিয়া থানায় ১৯টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে তিনি কয়টিতে জামিনে আছেন। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

 

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে ওঠা গুরুতর অভিযোগ—কোন মামলার এজাহারে হানিফের নাম ছিল, কোন মামলায় পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের সময় ও মামলায় অন্তর্ভুক্তির মধ্যে কী ঘটেছিল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে মামলার এজাহার, গ্রেপ্তারসংক্রান্ত নথি ও আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনের তথ্য পাশাপাশি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এসব নথিতে যদি এজাহারে নাম না থাকা ব্যক্তিকে পরবর্তী সময়ে কীভাবে ও কোন ভিত্তিতে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

 

পরিবারের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নয়, বরং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা চান। তাদের প্রশ্ন—একটি মামলায় পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের পর আরও তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পেছনে আসলে কী কারণ

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ সংবিধানসম্মত নয়: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছেন, টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পররাষ্ট্র

গলাচিপায় বসত ঘর আগুনে ভস্মিভূত

পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি বসত ঘর আগুনে ভস্মিভূত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রতনদীতালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া বন্দরে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে উলানিয়া বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘরটি আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বসত ঘরের দোতলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উলানিয়া বন্দরে আগুনের খবর শুনে আমরা দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি মৎস্য ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘরটি আগুনের লেলিহান শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কিছু আসবাবপত্র সরাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত বসত ঘরটি সম্পূর্ণ আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এ বিষয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘর থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসাকির্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে ২০ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

Scroll to Top