পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ভাজনা ও তুষখালী গ্রামের সংযোগস্থলে খালের ওপর নির্মিত জরাজীর্ণ ও ভেঙে পড়া কাঠের সাঁকোটি এখন এলাকার মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এই নড়বড়ে সাঁকোটির ওপর দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ভাজনা ও তুষখালী গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয়রা।
সরজমিনে দেখা যায়, খালের ওপর স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত কাঠের সাঁকোটির অধিকাংশ তক্তা পচে ও ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। সাঁকোর কাঠের পাটাতনের অনেক স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাঁকা তৈরি হয়েছে, যা পার হতে গিয়ে পা আটকে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় পথচারীদের। কোনো প্রকার নিরাপত্তার জন্য হাঁটার দুই পাশে কোনো রেলিং বা হাতল নেই। নড়বড়ে খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সাঁকোটি সামান্য বাতাসের দোলাতেই দুলতে থাকে। তা সত্ত্বেও বিকল্প কোনো যাতায়াতের পথ না থাকায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও নারীদের জীবন বাজি রেখে এর ওপর দিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে।
সাঁকোটি ব্যবহার করে প্রতিদিন স্থানীয় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বই-খাতা হাতে নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে এটি পার হয়। প্রায়শই সাঁকো থেকে পা ফসকে খালের পানিতে পড়ে বই-খাতা ভেজা কিংবা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। একই সঙ্গে বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ রূপ নেয় অবর্ণনীয় কষ্টে। এলাকায় কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে বা গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়লে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, কোনো যানবাহনই প্রবেশ করতে পারে না। ফলে কাঁধে করে বা ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে রোগীর যাতায়াত করতে গিয়ে জীবন চরম হুমকির মুখে পড়ে।
এক স্থানীয় অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের কোমলমতি সন্তানরা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যায়। যতক্ষণ তারা ঘরে না ফেরে, ততক্ষণ আমাদের চরম উদ্বেগে থাকতে হয়। আমরা কতকাল এভাবে চলব?”
এলাকাবাসীর চরম কষ্ট ও জনদুর্ভোগ লাঘবে ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের এই স্থানে অবহেলা না করে অবিলম্বে একটি পাকা গার্ডার বা আরসিসি সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকৌশলী (LGED) এবং পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষোপের জন্য জরুরি বিনীত আবেদন জানিয়েছেন ভাজনা ও তুষখালী গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ।



