নীরব ঘাতক প্রদাহ দীর্ঘদিন অবহেলায় বাড়তে পারে নানা রোগের ঝুঁকি

শরীরে কোন আঘাত, ক্ষতিকর বা সংক্রমণ জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রধাহ বা inflametion একটি স্বাভাবিক শরীর বৃত্তীয় প্রক্রিয়া। আক্রান্ত স্থানে ব্যথা, ফোলা, লালচে বা গরম হয়ে যাওয়া…. এসব তীব্র বা স্বল্পমেয়াদী প্রদাহের সাধারণ লক্ষণ। কিন্তু এই প্রদাহ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তখন এটি শরীরের সুস্থ টিস্যুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কয়েক মাস বা বছর পর্যন্ত থাকতে পারে এবং অনেক সময় এর লক্ষণ স্পষ্টও হয় না।

দীর্ঘদিনের প্রদাহ শুরুতে সব সময় বড় কোনো লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে। ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, জয়েন্ট ব্যথা বা শক্ত ভাব, বারবার জ্বর, পেটের সমস্যা, ওজন কমা বা বেড়ে যাওয়া, ত্বকে র‍্যাশ কিম্বা বারবার সংক্রমনের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমনঃ–

*রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস সহ বিভিন্ন অটোমিউন রোগ
*হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ
*টাইপ-২ ডায়াবেটিস
*হাঁপানি ও copd -এর মত ফুসফুসের রোগ
*ক্রোহনস ডিজিস ও অন্যান্য প্রদাহ জনিত অন্ত্রের রোগ
*সোরিয়াসিস
*কিছু নিউরোডিজনারেটিভ রোগ, যেমন আলঝেইমার ও পারকিসনের সঙ্গে প্রদাহকে নিয়ে গবেষণা রয়েছে
*কিছু নির্দিষ্ট ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে

দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। যেমন….শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন বিশেষ করে পেটের ভেতরের অতিরিক্ত চর্বি, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, ঘুমের অনিয়ম, ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। এছাড়া অটোইমিউন রোগ, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ বা রোগের কারণও প্রদাহ  চলতে পারে।

রোগ নির্ণয় পরীক্ষা নিম্নরূপ
*CRP
*ESR,  CBC
*কিডনি পরীক্ষা
*অটোইমিউন
*মল পরীক্ষা
*আল্ট্রাসনোগ্রাম
*এক্সরে /CT/MRI
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- কোন পরীক্ষা লাগবে তা রোগের লক্ষণ ও সম্ভাব্য কারণ এর উপরে নির্ভর করে।

প্রদাহের  চিকিৎসা একটি নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে সবার ক্ষেত্রে করা যায় না। প্রথমে প্রদাহের কারণ খুঁজে বের করা জরুরী। অবশ্যই কোন বিশেষজ্ঞের অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে চলতে হবে চিকিৎসা নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মতামত, শরীরের দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, জয়েন্ট ব্যথা বা শক্ত ভাব, বারবার জ্বর, দীর্ঘ মেয়াদী পেটের সমস্যা, অকারণে ওজন পরিবর্তন বা অন্য কোন দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ থাকলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রদাহের কারণ সনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা করাই সবচাইতে নিরাপদ পথ

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ সংবিধানসম্মত নয়: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছেন, টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পররাষ্ট্র

গলাচিপায় বসত ঘর আগুনে ভস্মিভূত

পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি বসত ঘর আগুনে ভস্মিভূত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রতনদীতালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া বন্দরে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে উলানিয়া বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘরটি আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বসত ঘরের দোতলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উলানিয়া বন্দরে আগুনের খবর শুনে আমরা দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি মৎস্য ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘরটি আগুনের লেলিহান শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কিছু আসবাবপত্র সরাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত বসত ঘরটি সম্পূর্ণ আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এ বিষয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘর থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসাকির্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে ২০ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

Scroll to Top