নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে হেলাল উদ্দিন (নাম) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৮টার দিকে ওই স্কুলছাত্রীকে একটি ফার্মেসির পেছনে নিয়ে যাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি আশপাশের লোকজন জানতে পেরে তাকে আটক করেন। পরে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় হাতিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার হেলাল উদ্দিন আদর্শ গ্রাম এলাকার বেলায়েত খলিফার ছেলে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।
তবে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, হেলাল উদ্দিনকে জামায়াতের কোনো পর্যায়ের কর্মী বা সদস্য করা হয়নি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন মানুষ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। হেলাল উদ্দিনও জামায়াতের কয়েকটি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ উঠেছিল। গত ৫ আগস্ট এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে তাকে ৫০টি বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলেও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, কথিত ধর্ষণের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্যও সচেতন মহল আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে ভুক্তভোগীর পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, “ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। হেলাল উদ্দিন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাকে জামায়াতের কোনো পর্যায়ের কর্মী বা সদস্য করা হয়নি।”
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।




