গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লিকেরমাঠ-শ্রীরামকান্দি সড়কের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে বারবার অবগত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি গত ২৯ আগস্ট বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দখলদাররা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন। এতে সরকারি জায়গা বেদখল হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়ক সংকুচিত হয়ে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাটগাতী ইউনিয়নের মল্লিকেরমাঠ-শ্রীরামকান্দি সড়কের পাশে আমিনুল শেখ নামে এক ব্যক্তি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি সরকারি জায়গা দখল করে এ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল শেখ, পিতা—আজহারউদ্দীন শেখ। সরকারি জায়গায় নির্মাণাধীন স্থাপনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও অসন্তোষ রয়েছে। তবে জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা ও স্থাপনাটি নির্মাণের বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
শুধু সড়কের পাশের সরকারি জায়গা নয়, একই এলাকার রাস্তার বিপরীত পাশে অবস্থিত সরকারি আদর্শ গ্রামের পুকুরের জায়গা দখল করে একাধিক পাকা দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে সেগুলো ভাড়া দিয়ে আসছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা পুকুরে ফেলা হচ্ছে। ফলে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, সরকারি জায়গা ও জনসাধারণের ব্যবহারের পুকুর এভাবে ধীরে ধীরে দখল হতে থাকলে ভবিষ্যতে দখলের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এতে সরকারি সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের চলাচল ও পরিবেশ সুরক্ষাও হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তির সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সরকারি পুকুরটি দখলমুক্ত করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি জায়গা দখলের প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল শেখ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে ঘর স্থাপন করে ব্যবসা করে আসছি। আগে কাঁচাঘর ছিল। সেটি ভেঙে নতুন করে পাকা স্থাপনা তৈরি করছি।”
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দিদারুল আলম মুঠোফোনে বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে ইউএনওর এ বক্তব্যের পরও নির্মাণকাজ চলমান থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দখলদারিত্ব আরও বিস্তৃত হতে পারে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের তদন্তের পরই সরকারি সম্পত্তির প্রকৃত সীমানা, দখলের বৈধতা এবং নির্মাণাধীন স্থাপনার বিষয়ে প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।



