টিনের ঘরের আড়ালে খাসজমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণচেষ্টা, প্রশাসনের বাধা

টিনের ঘরের আড়ালে খাসজমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণচেষ্টা, প্রশাসনের বাধা
জয়পুরহাটের কালাই পৌরশহরের মূলগ্রাম পূর্বপাড়া মহল্লায় সরকারি খাসজমিতে টিনের ঘরের আড়ালে পাকা বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে নূর আলম ওরফে নূরা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসবাসের পর পুরনো টিনের ঘর সরিয়ে সেখানে পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য কলাম তোলার কাজ শুরু করেন তিনি।
অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন তদন্ত করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার (২৬আগস্ট) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ১০৮৮ দাগের প্রায় ৮ শতাংশ জমির ওপর তিন ভাইয়ের টিনের তৈরি বসতঘর রয়েছে। এর একাংশে নূর আলম ওরফে নূরা টিনের ঘরের আড়ালে ইটের পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য কয়েকটি কলাম তুলেছেন। নির্মাণকাজ গেটবিম পর্যন্ত এগোলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খাস জমিতে দীর্ঘদিন টিনের ঘর তুলে বসবাসের পর এবার সেখানে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারি জমি স্থায়ীভাবে দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তারা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে খাস জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেশী লিয়াকত আলী জানান, সরকারি খাসজমিতে নতুন করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু হওয়ায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌরসভা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের সত্যতা পেয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে নূর আলম ওরফে নূরা বলেন, আমি একজন ভূমিহীন। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে এই জায়গায় বসবাস করছি। জায়গাটি সরকারি খাস, সেটিও জানি। টিনের বাড়িটি নড়বড়ে হয়ে গেছে।
তাই নতুন করে ইট দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছি। আমার আর কোনো জায়গাজমি নেই, এই ঘরেই থাকি।
নূর আলমের ভাই নূর মোহাম্মদ বলেন, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা তিন ভাই পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করছি। আট শতাংশ খাস জমির মধ্যে আমার প্রায় তিন শতাংশ, আরেক ভাইয়ের প্রায় তিন শতাংশ এবং বড় ভাই জালাল উদ্দিনের প্রায় দুই শতাংশের মতো জায়গায় বসতঘর রয়েছে। আমাদের নিজেদের কোনো জায়গাজমি নেই। এখন আমরা যাব কোথায়? জালাল উদ্দিনও ওই খাসজমির প্রায় দুই শতাংশ জায়গায় তাদের বসবাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কালাই সদর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) বিমল চন্দ্র বলেন, সরেজমিন সরকারি খাস জায়গার ওপর টিনের বাড়ির আড়ালে ইটের বাড়ি নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি বসানো হবে। একই সঙ্গে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তবে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, এ বিষয়টি আমি জানতাম না। আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পারলাম। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাস জমি ভূমিহীন ও প্রকৃত অসহায় মানুষের জন্য ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন দখলে থাকা জমিতে নতুন করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়বে। তারা ভূমি অফিসের মাধ্যমে জমিটির সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি খাসজমির পরিমাণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top