কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওষুধ, স্যালাইন ও স্যালাইন সেটসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনার নির্দেশ এবং এক কর্মীর অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন আকাশ নামে এক রোগীর স্বজন। এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের সেবার মান ও রোগীদের সঙ্গে কর্মীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আকাশ জানান, সম্প্রতি তিনি এক রোগীকে নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ছয়তলায় যান। সেখানে দায়িত্বরত নার্সরা তাঁকে একে একে ওষুধ, স্যালাইন ও স্যালাইন সেটসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন। তিনি সেগুলো কিনে আনলেও সরকারি হাসপাতালে এসে সবকিছু বাইরে থেকে কিনতে হলে সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার সুবিধা কী—এমন প্রশ্ন তোলেন।
আকাশের দাবি, তাঁর প্রশ্নের জবাবে সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি, যাঁর পদবি বা পরিচয় তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, ‘আপনি এমপিকে বিচার দেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিচার দেন, তাতে লাভ নেই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে আকাশ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, নিজের কাছে অর্থ থাকায় তিনি রোগীর প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পেরেছেন। কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের পক্ষে সব ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী বাইরে থেকে কেনা সম্ভব নাও হতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের কিছু কর্মীর আচরণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি বিষয়টি সবার নজরে আনতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি শেয়ার করার আহ্বান জানান।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর প্রাপ্যতা বজায় রাখা জনস্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে |




