কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন, স্থানীয়দের ক্ষোভ

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাইছারা গ্রামে কাবিখা প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করেই প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন ও ভাগাভাগির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিসের আওতাধীন চলতি অর্থবছরের কাবিখা প্রকল্পের আওতায় বাইছারা গ্রামের পূর্বপাড়া মুন্সি বাড়ি এলাকায় নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাস্তাটি পূর্ব-উত্তর পাশের পুরাতন এতিমখানা মাদরাসা থেকে হোসেন মিয়া ও আব্দুল করিমের বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার কথা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক মাস আগে নামমাত্র রাস্তা নির্মাণ করেই প্রকল্পের বড় একটি অংশের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ২ লাখ টাকার বরাদ্দের বিপরীতে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার কাজ করা হয়েছে। বাকি টাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের পকেটে গেছে।

এই অনিয়মের জন্য প্রকল্পের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিন, প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক ও বিতারা পূর্ব ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন মুন্সি এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. বশির হাসান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা’
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমি প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে জাকির মুন্সি ও বশির হাসান সরকারের হাতে দিয়েছি। টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে তা তারাই ভালো বলতে পারবে।”

প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন মুন্সি বলেন, “রাস্তাটি আমার পুরোনো বাড়ির লোকজন ও পারিবারিক কবরস্থানে যাওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে। পাশের জমি থেকে মাটি এনে নিচু জায়গা ভরাট করে কাজ করা হয়েছে। হোসেন মিয়ার জায়গা নিয়ে বাধা থাকায় কাজ সম্পূর্ণ করা যায়নি। অফিস খরচ ও জমির মালিককে ভরাট করে দেওয়ার জন্য কিছু টাকা হাতে রাখা হয়েছে।”

এদিকে বিতারা পূর্ব ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. বশির হাসান সরকার দাবি করেন, “আমি প্রকল্পের সদস্য নই। তবে কাজে সহযোগিতা করেছি। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়ম মাফিক কাজ করা হয়েছে।”

পিআইওর বক্তব্য মেলেনি”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম এবং দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা, বরাদ্দ ও বিল উত্তোলনের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রকল্পটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে বরাদ্দ ও বাস্তবায়িত কাজের হিসাব যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জিপিএ-৫ বা বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার মান নির্ধারণ করা যায় না- ডিসি সাইফুর রহমান

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়নে গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে দায়িত্বশীলতা, আত্মসমালোচনা ও কার্যকর

Scroll to Top