‘আমি শুনতে চাই না আমার বাবা-মা মৃত’

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে গত ১২ আগস্ট সকালে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচার চেয়ে সংবাদ করেছেন ছেলে।

বাবা-মা মৃত এ শব্দ শুনতে চাই না বলেই সংবাদ সম্মেলনে অঝোরে কাঁদলেন ছেলে। আজ সোমবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সিলেটে মিতালি আবাসিক এলাকায় নিহত দম্পতির চার সন্তান।

তিনি বলেন, আমাদের বাবা-মা আর কোনদিন ফিরে আসবে না। ছোট্ট সেই মেয়েটিও আর কোনদিন ফিরে আসবে না। কিন্তু তাদের হত্যার বিচার হলে অন্তত আমরা মনে করতে পারব এই দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, তিনজনকে একসঙ্গে হারানোর দুর্ভোগ প্রতিটি মুহূর্তে তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মা-বাবার অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি পরিবারের ছোট গৃহকর্মী মেয়েটির মৃত্যুও তাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রয়েছে বলে জানায় তারা।

তারা বলেন, দেশে আইন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে-এ বিশ্বাস তাদের রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা চারটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো-হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখা এবং আইনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

তারা বলেন, কোনও নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী প্রভাবশালী হওয়ার কারণে যেন আইনের আওতার বাইরে যেতে না পারেন।

পরিবারের এই সঙ্কটে পাশে দাঁড়ানো সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় তারা। মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং সমবেদনার জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষভাবে সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে জনগণকে অবহিত করার আহ্বান জানায়। এ সময় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতদের কোনো ছবি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানায় পরিবারের সদস্যরা।

তারা বলেন, বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বেদনাদায়ক। মানবিকতা ও সংবেদনশীলতার জায়গা থেকে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা যেন তাদের অনুরোধ বিবেচনা করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত রংমিস্ত্রী বাবুলকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ সংবিধানসম্মত নয়: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছেন, টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পররাষ্ট্র

গলাচিপায় বসত ঘর আগুনে ভস্মিভূত

পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি বসত ঘর আগুনে ভস্মিভূত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রতনদীতালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া বন্দরে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে উলানিয়া বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘরটি আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বসত ঘরের দোতলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উলানিয়া বন্দরে আগুনের খবর শুনে আমরা দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি মৎস্য ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘরটি আগুনের লেলিহান শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কিছু আসবাবপত্র সরাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত বসত ঘরটি সম্পূর্ণ আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এ বিষয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, আব্দুল খালেক বেপারীর বসত ঘর থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসাকির্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে ২০ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

Scroll to Top