সংবাদ প্রকাশের জেরে খুলনার কয়রায় সাংবাদিককে গুম ও হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

‎খুলনার কয়রায় হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক মিনহাজ উদ্দিন দীপুকে প্রকাশ্যে গুম ও হত্যার হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে কয়রা সদরের ইমান মার্কেটে ইমরানের চায়ের দোকানে সাংবাদিককে সবার সামনে এই সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে কয়রা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

‎মিনহাজ উদ্দিন দীপু দৈনিক সকালের সময়, আমার একুশ এবং দৈনিক রানার পত্রিকার কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি জানান, পেশাগত সততার অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ ও স্থানীয় অনিয়মের খবর তুলে ধরেন। এরই অংশ হিসেবে কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের তথ্যভিত্তিক খবর পরিবেশন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই দফাদার।

‎ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে চা দোকানে অবস্থানকালে মতিউর রহমান তাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, ‘নিউজ করলি কেন? তোর দুই ভাইকে সতর্ক করেছি। তারপরও তুই নিউজ করলি কেন? সময় হলে তোকে তুলে নিয়ে যাব, মেরে দিব। দেখি তোকে কে বাঁচায়।’ এ ঘটনায় স্বাধীন সাংবাদিকতা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

‎এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত দফাদার মতিউর রহমান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ক্ষমতার বেপরোয়া প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। এমনকি তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে সরাসরি যোগাযোগের ভুয়া দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এসব অনিয়মের প্রতিকারে কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে রেজুলেশন পাশ করে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার লিখিত সুপারিশ উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছিলেন।

‎কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দফাদার মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অগণিত অভিযোগ থাকায় ইউপি সদস্যরা রেজুলেশন করে ইউএনও কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। তবে প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে এখনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মতিউর রহমানের দুটি মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকি জানান, হুমকি দেওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top