বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদল দুটি পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জেলার বিভিন্ন স্থানে আনন্দ র্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়।
জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীনের নেতৃত্বে একটি আনন্দ র্যালি পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, “বাংলাদেশ যুবদল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সংগঠন এবং বিগত সকল সংগ্রামে এটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দল পরিচালনা করুন।” এ সময় তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “দলের কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে তারেক রহমানের এই দলে তাদের কোনো স্থান হবে না।”
উক্ত র্যালি ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল হোসেন, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেভীনসহ জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী।
অপরদিকে, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমনের আয়োজনে আরেকটি বর্ণাঢ্য র্যালি রথখোলা থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আখড়া বাজার ব্রিজ সংলগ্ন নজরুল চত্বরে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বিগত সময়ে যুবদলের কার্যক্রম যেমন প্রশংসিত ছিল, আমি আশা করি আগামী দিনেও রাষ্ট্র গঠনে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসরাইলী মিয়া। এ ছাড়াও জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দুই গ্রুপের এই পৃথক কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের নানা স্লোগানে মুখর ছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক ও সমাবেশস্থল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি। রাজনৈতিক মহলে এই পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা যুবদলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।




