টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরাট কোহলির অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব। তার মতে, ফিটনেস ধরে রাখতে পারলে আরও দুই-তিন বছর অনায়াসে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারতেন কোহলি। কয়েক বছর পর নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোসও হতে পারে ভারতের সাবেক এই অধিনায়কের।
গত সপ্তাহে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেন কোহলি। তার সেই পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়েই টেস্ট ক্রিকেট থেকে তার অবসরের প্রসঙ্গ তোলেন কপিল।
পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় অধিনায়ক বলেন, ‘যেভাবে সে খেলছে, তাকে দারুণ দেখাচ্ছে। এই বয়সে তার ফিটনেসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সে যদি আরও দুই-তিন বছর নিজেকে ফিট রাখতে পারে, তাহলে আমার মনে হয় সে সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারবে।’
কোহলির টেস্ট অবসরের সিদ্ধান্তে নিজের হতাশার কথাও জানান কপিল। তিনি বলেন, ‘তার জন্য আমার খারাপ লাগে। সে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছে। কেন এমন করেছে, আমি জানি না।’
তবে সিদ্ধান্তটি কোহলির ব্যক্তিগত বিষয় বলেই মনে করেন ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক। কপিলের ভাষায়, ‘সে সবচেয়ে ভালো জানে। কিন্তু একজন দর্শক এবং সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে আমার মনে হয়, তার আরও টেস্ট খেলা উচিত ছিল। কারণ তার সেই সামর্থ্য আছে।’
কোহলি কয়েক বছর পর নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস করতে পারেন বলেও মনে করেন কপিল। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর পর সে অবশ্যই ভাবতে পারে-আমি কেন আরও কিছুদিন টেস্ট খেললাম না? যখন আপনি খেলাটাকে ভালোবাসেন, যখন খেলার প্রতি আপনার আবেগ থাকে, তখন নিজেকে সামলাতে পারলে কেন অবসর নেবেন?’
টি-টোয়েন্টি ও টেস্টের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে কপিল বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি টি-টোয়েন্টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে ওয়ানডে ও টেকনিকের যে সমন্বয় দরকার, সেটা তার খুব ভালোভাবে আছে।’
কোহলির বয়স নিয়ে কপিল বলেন, ‘আমার মনে হয় তার বয়স ৩৭ বা ৩৮। ক্রিকেটে সে এখন অনেক অভিজ্ঞ। তাই আমাদের মতো বাইরের মানুষের তার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরামর্শ দেওয়া ঠিক নয়। সে নিজের জন্য কোনটা ভালো, সেটা সবচেয়ে ভালো জানে।’
তবে নিজের মতামত হিসেবে কপিল আবারও বলেন, কোহলির আরও কিছুদিন টেস্ট খেলা উচিত ছিল। এমনকি অবসর ভেঙে ফিরে আসার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
কপিলের ভাষায়, ‘বাইরের একজন হিসেবে আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি-তার আরও কিছুদিন খেলা উচিত ছিল। তার অবসর থেকে ফিরে আসা উচিত। তবে আমাদের মতো মানুষের এমনটা বলা উচিত নয়। এটা তার সিদ্ধান্ত, আমাদের নয়।’




